গ্রাহকদের শতশত কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া ট্রাভেল এজেন্সি হালট্রিপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ তাজবীর হাসান জামিন পেয়েছেন। তিনি আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত।
মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুর রহমান শুনানি শেষে তাজবীরের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে জামিনের আদেশ দেন।
এ সময় বিচারক বলেন, ‘যেহেতু আসামির বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলা প্রক্রিয়াধীন সেক্ষেত্রে এখানে রিমান্ড ও কারাগারে আটক রাখার কোনো আবশ্যকতা নেই।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দা ফাহমিদা হোসেন এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৪ অক্টোবর মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।
সেদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া। তবে ওই দিন রিমান্ড শুনানি হয়নি। তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য ১৪ অক্টোবর দিন ধার্য করে দিয়েছিলেন বিচারক।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ বলেছিল, তুরস্কে যাওয়ার পথে আসামি তাজবীর হাসানকে ৫৪ ধারায় আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি তুরস্কসহ আরো একটি দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
তাজবীর গত ২৪ সেপ্টেম্বর তুরস্কের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন বলে বিমানবন্দরের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তাকে গ্রেপ্তারের পরই গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গিয়েছিল, তাজবীর আলোচিত পি কে হালদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এ কারণে তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান। তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়েরও অভিযোগ রয়েছে। তিনি পি কে হালদারের বড় অঙ্কের অর্থের ১০ শতাংশের শেয়ারহোল্ডার বলেও জানিয়েছিলেন গোয়েন্দারা।
২০২০ সালে গ্রাহকদের শতশত কোটি টাকা নিয়ে হঠাৎই উধাও হয়ে যায় ট্রাভেল এজেন্সি হালট্রিপ। ক্ষতিগ্রস্ত হয় অসংখ্য যাত্রী ও ট্রাভেল এজেন্সি।


