আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুরের পশুর খামারগুলো বেশ জমে উঠেছে। জেলার ছোট-বড় খামারিরা কোরবানির পশু প্রস্তুত করতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। চাহিদার তুলনায় বেশি গবাদি পশু প্রস্তুত হওয়ায় খামারিদের মুখে স্বস্তির হাসি। তবে গো-খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে লাভ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ধরনের শঙ্কা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে যে জামালপুরে প্রায় ১২ হাজার খামারির কাছে কোরবানির জন্য ১ লাখ সাত হাজার ৬৫টি গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে। অথচ এবার জেলায় পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৮২ হাজার। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত প্রায় ২৫ হাজার পশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি করা যাবে।
শনিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা গরু মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কেউ নিজ হাতে খামারের প্রতিটি গরুর যত্ন নিচ্ছেন। আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দিন-রাত পরিশ্রম করে তাদের স্বপ্নের খামার গড়ে তুলেছেন। খড়, ঘাস, ভুসি ও ভুট্টাসহ দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে তারা সুস্থ ও আকর্ষণীয় গরু প্রস্তুত করেছেন।
ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল এলাকার খামারি শান্ত ফারাজি জানান, তিনি অত্যন্ত যত্ন আর ভালোবাসা দিয়ে গরুগুলো লালন-পালন করেন। তিনি কখনো কোনো ভেজাল বা ক্ষতিকর খাবার গরুকে খাওয়াননি। সম্পূর্ণ দেশীয় ও পুষ্টিকর খাবার দিয়েই তিনি গরুগুলো বড় করেছেন। এবার কোরবানির হাটে গরুগুলো তুলবেন এবং ক্রেতাদের সাড়া কেমন পাওয়া যায় তা দেখার অপেক্ষায় আছেন।
আরেক খামারি লাভলু শেখ তার উদ্বেগের কথা জানিয়ে বলেন, বাজারে গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এই কারণে খামারের খরচ তুলতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে যদি শেষ পর্যন্ত গরুর দাম কমে যায়, তবে লাভ করা তো দূরের কথা, টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে।
এবারের ঈদে হাটে গরু তোলার পাশাপাশি অনলাইনে পশু বিক্রিও লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়েছে। অনেক খামারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গরুর ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছেন। খামারিরা জানান, অনলাইন মাধ্যমে তারা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছেন।
অনলাইনে ‘ফিরোজা এগ্রো ফার্ম’ নামে একটি পেইজ খুলে গরু বিক্রি করছেন খামারি মোঃ ফারুক। তিনি জানান, অনলাইনে গরুর ছবি ও ভিডিও দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে গরুর ওজন উল্লেখ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে ৫০০ টাকা থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে লাইভ ওয়েটে গরু বিক্রি হচ্ছে। অনেক ক্রেতা আগে থেকেই গরু বুকিং দিয়ে রাখছেন। আবার অনেকে খামারে এসে দেখে গরু নিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ যোগাযোগ করায় হাটে নেওয়ার আগেই কিছু গরু বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, জেলার ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে খামারিদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি কোরবানির পশু বিক্রির জন্য জেলায় প্রস্তুত আছে বিভিন্ন পশুর হাট।


