ঈদুল আজহা ঘিরে আন্তঃনগর ট্রেনে নারীদের যাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে আলাদা কোচ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, ঈদের পর পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে এ সুবিধা চালু করা হবে।
সোমবার ঢাকার ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য মেট্রোরেল ও ট্রেন ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ কথা বলেন।
‘ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে আন্তঃনগর ট্রেনে নারী যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আলাদা কোচ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আজ থেকে সোনার বাংলা এক্সপ্রেস এবং জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে একটি করে কোচ শুধুমাত্র নারী যাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। ঈদের পর পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে এ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে,’ বলেন তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার গণপরিবহন ব্যবস্থাকে মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনবান্ধব করতে কাজ করছে। প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াত সহজ ও সম্মানজনক করতে এই বিশেষ ভাড়া ছাড় কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, এখন থেকে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাবেন। প্রবীণদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এই সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে জানিয়েছে, প্রবীণ যাত্রীরা অনলাইন ও কাউন্টার—উভয় মাধ্যম থেকেই ২৫ শতাংশ ছাড়ে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে টিকিট কেনার সময় জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে বয়স যাচাই করা হবে। তবে সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী প্রযোজ্য থাকবে।
প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ ও শোভন শ্রেণিতে বিদ্যমান ৫০ শতাংশ ভাড়া ছাড় বহাল থাকবে। পাশাপাশি সব শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শ্রেণিতে নতুন করে ২৫ শতাংশ ছাড় কার্যকর করা হয়েছে।


