দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে নিশ্চিত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে।
এর মধ্যে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে এবং বাকি চারজনের মৃত্যু হামের সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
একই সময়ে দেশে নতুন করে আরও ১ হাজার ৬৩১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা চলতি বছরে এক দিনে হাম ও হামের উপসর্গে সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৭৯ জনে। ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৭৫ জন।
এই সময়ের মধ্যে মোট ৪৬ হাজার ৪০৭ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ হাজার ৩৩৬ জন।
এ ছাড়া ১৫ মার্চ থেকে অদ্যাবধি সারা দেশে হামের কারণে নিশ্চিতভাবে ৮৩ জন এবং সন্দেহভাজন উপসর্গ নিয়ে ৪০৫ জনসহ মোট ৪৮৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
তবে আশার কথা হলো, দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ লাখ ৫ হাজার ৯৫০ জন শিশু, যেখানে এ পর্যন্ত ২০ লাখ ৭ হাজার ৯৯২ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, কভারেজ ১০৫ শতাংশ।
এর মধ্যে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে লক্ষ্যমাত্রার ১১২ শতাংশ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন উভয় ক্ষেত্রেই ১০৯ শতাংশ কাভারেজ অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে, রংপুর সিটি করপোরেশনে সর্বনিম্ন ৯৭ শতাংশ কভারেজ রেকর্ড করা হয়েছে।


