নাটক, সিনেমা, থিয়েটার বা ওটিটি—সব মাধ্যমে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন অভিনেতা শাহেদ আলী। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে ইরানি পরিচালক মুর্তজা অতাশ জমজম পরিচালিত ‘ফেরেশতে’। সিনেমাটিতে তার অভিনয় বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ইরানি সিনেমা দেখে বড় হওয়া শাহেদ আলীর জন্য ইরানি পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল একদম নতুন। ‘ফেরেশতে’ সিনেমায় অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার কাজের ভঙ্গি, ভাবনার ধরন—সবকিছুই ভিন্ন। আমরা সাধারণত এইভাবে কাজ করতে অভ্যস্ত নই।’
সেই ভিন্নতার জন্যই দর্শকের এই সিনেমা দেখা উচিত বলেই মনে করেন তিনি, ‘এখানে এক ইরানি নির্মাতা বাংলাদেশের জীবনের গল্প তার নিজের দৃষ্টিতে বলেছেন। ফলে পরিচিত বিষয়গুলোও একেবারে নতুনভাবে ধরা দেবে।’
আগে ছিলেন থিয়েটারের কর্মী, মঞ্চই ছিল তার বিচরণভূমি। এখন কাজ করছেন বড় পর্দায়। সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাহেদ বলেন, ‘আমার লড়াইটা নিজের সঙ্গেই। প্রতিটি মাধ্যম আলাদা চ্যালেঞ্জ দেয়। নতুন চরিত্র পেলে মনে হয়, এটা আমার বাইরের কিছু—তাকে নিজের মধ্যে খুঁজে বের করাটাই আনন্দের।’
তবে সচেতন থাকেন চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে। এ ব্যাপারে তার একটাই শর্ত—গল্পের মধ্যে চরিত্রের অবস্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ‘চরিত্রটা গল্পে কী বলছে, পরিচালক সেটাকে কীভাবে দেখছেন—এই দুই জায়গা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেন তিনি।
শিল্প আর রাজনীতি, আলোচনায় উঠে আসে এ দুটি প্রসঙ্গও। শিল্পীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে শাহেদের বক্তব্য স্পষ্ট , ‘শিল্পীকে রাজনীতি সচেতন হতে হবে, কিন্তু দলীয় রাজনীতি থেকে দূরে থাকা দরকার। কারণ, শিল্পী মানুষের কথা বলে, দলের নয়।’
ওটিটিতে অনেকগুলো সিরিজে অভিনয় করেছেন শাহেদ। সেটাও এক নতুন ধরনের অভিজ্ঞতা। টেলিভিশন নাটকের প্রযোজনা আর ওটিটির প্রযোজনা এক নয় বলে মনে করেন এই অভিনেতা। তার মতে, ‘ওটিটিতে প্রযোজকের ভূমিকা অনেক বড়। এখনো সেই জায়গায় আমরা পুরোপুরি পেশাদার হতে পারিনি। পেশাদার মানে শুধু টাকা নয়, কাজের প্রতি মনোযোগ আর দায়বদ্ধতা। সেটার অভাব রয়ে গেছে।’
সেই সঙ্গে বদল এসেছে দর্শকের রুচিতে। ‘এখন দর্শক মুহূর্তে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের কাজ দেখতে পারে। ফলে তাদের রুচি বদলে যাচ্ছে খুব দ্রুত। আগের মতো তারা আর একটির ওপর নির্ভরশীল নয়।’
সবমিলিয়ে অপূর্ণতা থেকেই গিয়েছে। থিয়েটার ও টেলিভিশন শিল্পের অপূর্ণতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন শাহেদ। তার মতে, ‘থিয়েটারের নেতারা বড় উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করলেও অনেকে ব্যক্তিগত স্বার্থে সময় নষ্ট করেছেন। টেলিভিশনেও হয়েছে ঠিক তেমনই। ফলে এই মাধ্যমগুলো যেভাবে সমৃদ্ধ হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি।’
অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেই স্কুলজীবনেই। দশম শ্রেণিতে পড়ার সময়ের ঘটনা। একদিন ক্লাসে শিক্ষক জানতে চাইলেন কে কী হতে চায়। শাহেদ আলী বলেন, ‘আমি বললাম, অভিনেতা হতে চাই। স্যার হাসলেন, বললেন, “এটা কি খুব এলিজিবল(উপযুক্ত) পেশা?” না ভেবেই বলেছিলাম, “আমি যখন করব তখন হবে।’ তখনই সিদ্ধান্ত নিই, আমি অভিনেতা হব।’
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে অভিনয় পেশার সেই লড়াই এখনও চলছে শাহেদ আলীর। তারপরও প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার আনন্দ উপভোগই করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে হয়। প্রতিটি কাজের মধ্যেই নতুন এক লড়াই থাকে। আর সেই লড়াইটা আমি উপভোগ করি।’


