ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আয়োজন জাতির সঙ্গে তামাশার শামিল। জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে এ ধরনের ঘোষণায় দেশবাসীর হতাশা আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মতলব দক্ষিণ উপজেলা শাখার তৃণমূল সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় মতলব পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, দুপুরে আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এতে জাতীয় নির্বাচন, গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ অনুমোদনও করা হয়।
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলেন, সবাই ক্ষমতাপ্রেমে অন্ধ ছিলেন। তাদের মধ্যে ন্যূনতম দেশপ্রেমও ছিল না। এখন সময় এসেছে দেশপ্রেমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। দেশপ্রেমিকরা এক হলে ক্ষমতালোভীরা পালানোর সুযোগও পাবে না।
চরমোনাই পীর বলেন, লাখ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আজও সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং দুর্নীতির দিক থেকে দেশ বিশ্বের শীর্ষে পৌঁছে গেছে। চাঁদাবাজি থামেনি, নির্যাতনকেন্দ্র বন্ধ হয়নি, হাজারো পরিবার এখনো শোকে কাতর।
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলাম ছাড়া মানবতার মুক্তি নেই। আমরা ভারসাম্যপূর্ণ একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই। মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাই।’
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মাকসুদুর রহমান, চাঁদপুর–২ (মতলব উত্তর–দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা নাসির আহমাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেলাল আহমাদ এবং যুবনেতা শেখ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানসহ উপজেলা নেতৃবৃন্দ। সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মতলব দক্ষিণ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আনসার আহমাদ।


