২০২৫ সালের নভেম্বরে গাজীপুরের হায়দরাবাদ এলাকায় জবাই করা ঘোড়া ও ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেশে ঘোড়ার মাংসের অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একটি রিট আবেদনের শুনানি করে রোববার বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। রুলে ঘোড়ার মাংস এবং রোগাক্রান্ত পশুর মাংসের অবৈধ জবাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিতরণ ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
১১ মে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসান এই রিট করেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাজিদ হাসান।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি তুলা কারখানাকে অবৈধ জবাইখানায় রূপান্তর করে সংগঠিত অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই অভিযানে প্রায় ৩৬টি গুরুতর অসুস্থ ঘোড়া ও আটটি জবাই করা ঘোড়ার মরদেহ এবং বিতরণ ও বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা প্রাণীগুলো অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাণীগুলো প্রচণ্ড অপুষ্টি, চিকিৎসাবিহীন সংক্রমণ, উন্মুক্ত ক্ষত, পোকা সংক্রমণ, টিউমার এবং অন্যান্য গুরুতর আঘাতে ভুগছিল। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত ভেটেরিনারি পরীক্ষায় অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী সংক্রমণ, ছত্রাক দূষণ এবং সন্দেহজনক যক্ষ্মা সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়, যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার মত সংক্রামক। এই দূষিত মাংস মানুষের খাদ্য হিসেবে প্রতারণামূলকভাবে বাজারজাতকরণ ও বিক্রি করা হচ্ছিল। এমনকি এই মাংসকে গরুর মাংস নাম দিয়েও মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল।
কর্তৃপক্ষ এসব কার্যক্রম তাৎক্ষণিক বন্ধের নির্দেশ ও মনিটরিং ব্যবস্থার কথা জানালেও তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা নেই।
বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অবৈধ ঘোড়ার মাংসের বাণিজ্য সংক্রান্ত জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সকল প্রাসঙ্গিক সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, এ কে খান হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং অভিনেত্রী ও প্রাণী কল্যাণ কর্মী জয়া আহসানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জনস্বার্থে রিট করা হয়।


