ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে হবিগঞ্জের চারটি আসনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলায় ৬৪৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬৪৭টি কেন্দ্র ও চারটি পোস্টাল বুথে দায়িত্ব পালন করবেন ২ হাজার ৬৭ জন পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া থাকবে ৫৫টি মোবাইল টিম, নয়টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও দুটি কুইক রেসপন্স টিম। প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
সীমান্তবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক দায়িত্বে থাকা পুলিশের গায়ে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ব্যবহার করবেন ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপস।
পুলিশ সুপার ইয়াসমিন খাতুন বলেন, ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারবেন।’
জেলার চারটি আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে পাঁচজন, হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনে পাঁচজন, হবিগঞ্জ-৩ (সদর-শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাই) আসনে ছয়জন এবং হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনে নয়জন প্রার্থী রয়েছেন।
সোমবার প্রচারের শেষ দিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের মিছিল, সমাবেশ ও গণসংযোগে মুখর ছিল নির্বাচনী এলাকা। হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী জি কে গউছ পৌরসভা মাঠে সমাবেশ করেন। তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী কাজী মহসিন আহমেদও বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালান। অন্যান্য প্রার্থীদেরও গণসংযোগ করতে দেখা গেছে।
হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া (ঘোড়া) মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। হবিগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান (ধানের শীষ) এগিয়ে রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
হবিগঞ্জ-৩ আসনে জি কে গউছের (ধানের শীষ) সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কাজী মহসিন আহমেদ (দাঁড়িপাল্লা)। হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির সৈয়দ ফয়সল (ধানের শীষ) ও ইসলামী ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিনের (মোমবাতি) মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৬ জন, নারী ভোটার ৯ লাখ ৫ হাজার ২৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৪ জন।


