যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের সম্মানে সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নৈশভোজ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠানের সূচনা হবে। যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেড় শতাধিক শীর্ষ নেতাকে এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে আমন্ত্রিতদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর সই করা আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নৈশভোজের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত থাকবেন।
সূত্র জানায়, যুগপৎ আন্দোলনের অংশ না হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথমবারের মতো যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সরকার ও শরিক দলগুলোর ভবিষ্যৎ সমন্বয় এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে রয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চের জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, ১২-দলীয় জোটের বিভিন্ন দল, এলডিপি, কল্যাণ পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (এনডিএম), জাগপা, গণফোরাম, এবি পার্টি, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের বিভিন্ন দল, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, জাতীয় গণফ্রন্ট, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিশ, ইসলামী ঐক্যজোটসহ আরও বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতৃত্বে পরিচালিত যুগপৎ আন্দোলনে এসব শরিক দল অভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।


