দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় মুখ সি. জোসেফ বিজয়—যাকে ভক্তরা ‘থালাপতি বিজয়’ নামেই চেনেন—প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাঠে নেমেই চমক দেখালেন। তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৭টি আসনে জয় তুলে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তৈরি করেছে।
বিজয় নিজেও পেরাম্বুর ও তিরুচিরাপল্লি (পূর্ব)—এই দুই আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। নতুন রাজনৈতিক দল এবং প্রথম নির্বাচন—এই দুই বাস্তবতা সত্ত্বেও এমন ফলাফল অনেকের কাছেই বিস্ময়কর।
এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় তার বিপুল জনপ্রিয়তা। দক্ষিণ ভারতের সিনেমা জগতে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ তারকাদের একজন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বিজয়কে অনেকেই রজনীকান্ত-এর পর সবচেয়ে প্রভাবশালী তারকা হিসেবে দেখেন। সেই জনপ্রিয়তাই ভোটের মাঠে বড় পুঁজি হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে শুধু তারকাখ্যাতি নয়, বিজয়ের নির্বাচনী ইশতেহারও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো তাকে আলাদা করে তুলে ধরে।
ইশতেহারে ৬০ বছরের নিচের নারীদের জন্য মাসিক ভাতা, বছরে নির্দিষ্টসংখ্যক এলপিজি সিলিন্ডার বিনামূল্যে সরবরাহ, দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা—এ ধরনের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ছিল উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও বড় পরিকল্পনার কথা বলেছেন বিজয়। আধুনিক আবাসিক স্কুল, উচ্চশিক্ষার জন্য সুদমুক্ত ঋণ এবং পরিবারভিত্তিক স্বাস্থ্যবিমার মতো প্রতিশ্রুতিগুলো সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
যুবকদের জন্যও ছিল স্পষ্ট বার্তা। সময়মতো সরকারি পরীক্ষা আয়োজন, বেকার ভাতা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি—এসব উদ্যোগ তরুণদের বড় একটি অংশকে তার দিকে টেনে এনেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া কৃষকদের ঋণ মওকুফ ও মাদকবিরোধী অবস্থানও তার রাজনৈতিক বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, বিজয়ের এই উত্থান কেবল একজন চলচ্চিত্র তারকার জনপ্রিয়তার ফল নয়; বরং লক্ষ্যভিত্তিক ইশতেহার, নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের ওপর ফোকাস এবং শক্তিশালী ইমেজ—এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয়েছে তার ‘রাজনৈতিক ম্যাজিক’। এখন মূল প্রশ্ন—এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কতটা রূপ পায়।


