দেশ এখনো পূর্ণ স্বাধীনতা পায়নি: ফয়জুল করীম

দেশ এখনো পূর্ণ স্বাধীনতা পায়নি: ফয়জুল করীম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যুব আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পরেও দেশ এখনো পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু ৫৪ বছর পরও সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশে নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন না হলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না।’

শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যুব আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘স্বাধীনতার পথরেখা – ৪৭, ৭১, ২৪: প্রেক্ষিত আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, ‘মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসন জনগণ দেখেছে। কিন্তু তাদের শাসনে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু দেশ, দল এবং নেতা পরিবর্তন করে শান্তি আসবে না। শান্তি তখনই আসবে, যখন আমরা নীতি ও আদর্শের পরিবর্তন আনতে পারব এবং ইসলামের সুমহান আদর্শকে রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে পারব।’

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আরও বলেন, ‘১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ হয়েছিল দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে, পাকিস্তান হবে মুসলমানদের এবং হিন্দুস্তান হবে সনাতনীদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। এরপর ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর জুলুমের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম ছিল স্বাধীনতার জন্য। তবে আজও বাংলাদেশের কায়েমী স্বার্থবাদী লুটেরা শ্রেণি যুবসমাজকে নানা ভাবে ব্যবহার করছে তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য।’

আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, ‘মিথ্যা ও অন্যায় অনুসরণ করে যাওয়া যুবসমাজকে ফিরিয়ে আনতে হবে ধ্বংসের পথে থেকে। যুবসমাজের চোখে ইসলামের চিরমুক্তির আলো প্রজ্বলিত করতে হবে। আমরা ঐতিহাসিকভাবে বলেছিলাম, শুধু নেতা নয়, নীতি-আদর্শের পরিবর্তন চাই। সেই নীতির আলোই সমাজের অন্ধকার দূর করতে সক্ষম হবে।’

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল মুফতি মানসুর আহমদ সাকী-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী আবদুল মোমেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, ব্রাকের এইচআর এবং ডেভেলপমেন্ট প্র্যাকটিশনার ফারহান বাশার।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি মুফতী জাহিদুজ্জামান, যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নাদিম হাসান, বাংলাদেশ ইসলামী যুব সমাজের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান, ইসলামী যুব মজলিসের সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শাব্বির আহমদ।

এ সময় মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘পশ্চিমা দখলদার গোষ্ঠী এবং ব্রাহ্মণ্যবাদী ভারত চায় বাংলাদেশকে তাদের উপনিবেশ বানিয়ে রাখতে। তবে এদেশের স্বাধীনচেতা জনগণ কখনো বিদেশি শক্তির কাছে নত হয়নি। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী বারবার ক্ষমতায় আসতে বিদেশি শক্তির পুতুল হিসেবে কাজ করেছে, যা দেশের জন্য দুঃখজনক।’

সভাপতির বক্তব্যে আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, ‘১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং আগামীর কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ— এই তিনটি পথরেখাই আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বহন করে। আগামীর সুন্দর এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে যুব সমাজকে ইসলামের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানাই।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad