নিরাপত্তা ইস্যুতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যৌথ আয়োজক দেশ ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচ ভারতের বাইরে সরিয়ে নিয়ে গত রোববার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) চিঠিও পাঠিয়েছে বিসিবি। সেই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয় বিসিবি ও আইসিসির।
জানা গেছে, বিসিবির করা সেই অনুরোধ রাখেনি আইসিসি। সোজা জবাবে বিসিবিকে তারা জানিয়েছে, হয় ভারতে ম্যাচ খেল, নইলে বিশ্বকাপের পয়েন্ট হারাও। অবশ্য বিসিবির একটি সূত্রর দাবি অনুসারে বুধবার মধ্যরাতে ইএসপিএনক্রিকইনফোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইসিসি থেকে এমন কোনো আল্টিমেটাম তারা পাননি।
গত সোমবার বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই সভা নিয়ে বলেন বলেন, ‘তারা আমাদেরকে মিটিং করার জন্য বলবে খুব তাড়াতাড়ি। সেখানে আমাদের কথাগুলো আমরা প্রকাশ করব। তবে যে ই-মেইলটা আমরা পাঠিয়েছি, এটির জবাবের ওপর নির্ভর করবে, আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেব।’
আইসিসির টুর্নামেন্টের নিয়মানুযায়ী, কোনো অংশগ্রহণকারী দেশ ম্যাচ না খেললে পয়েন্ট খোয়াবে। প্রতিপক্ষ পাবে ওয়াকওভার। সেই ঝুঁকি বিসিবি নেবে কিনা, এই প্রশ্ন তো থাকছেই। কারণ ভবিষ্যতে আইসিসির অনুদান-সহ আনুষাঙ্গিক অনেক কিছুতেই পড়তে হতে পারে চ্যালেঞ্জের মুখে। সব মিলিয়ে বল আবার এখন বিসিবির কোর্টে।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। গ্রুপ পর্বের প্রথম তিন ম্যাচ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ও শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম।
বাস্তবতা বলছে বাইরে বাংলাদেশের ম্যাচ সরিয়ে নেয়ার সুযোগ এই মুহূর্তে খুব একটা আইসিসির হাতে নেই। সেক্ষেত্রে সূচি, ব্রডকাস্টিং প্রোডাকশন, টিকেটিং ও অন্যান্য দেশগুলোকে রাজি করানোর ঝক্কি ঝামেলায় পড়তে হবে তাদের। যদিও এই ভার্চুয়াল সভা নিয়ে বিসিবি কিংবা আইসিসির কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
মূলত উগ্রবাদীদের আন্দোলন ও হুমকির মুখে, বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স সরিয়ে দেয়ার পর থেকেই নানান দিকে মোড় নিয়েছে ঘটনা। গত শনিবার রাতের পর রোববারও দুপুর ১টায় জরুরি সভা ডাকে বিসিবি। ১৭ পরিচালকের উপস্থিতিতে হওয়া সেই সভা শেষেই আসে বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সংবাদ বিজ্ঞতিতে জানানো হয়, ভারতের বাইরে বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের সকল ম্যাচের ভেন্যু সরিয়ে নিতে আইসিসিতে আবেদন করেছে বিসিবি।
অবশ্য এখানেই শেষ নয়, মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়ার জেরে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সব ধরনের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়।


