৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই আয়োজনে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।
প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে চার রাত অবস্থান করবেন। ২৬ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। তার সঙ্গে চার মন্ত্রীসহ ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল যাবে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
রোববার অধিবেশন সামনে রেখে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে বর্তমান সরকারের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।’
পররাষ্ট্রসচিব বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, মানবিক সংকট ও ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে আন্তর্জাতিক শান্তি ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, উন্নয়ন অর্থায়নের ঘাটতি ও প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, ‘২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনা, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।’
বক্তব্যে থাকবে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যু
পররাষ্ট্রসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু কার্যক্রম, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা তুলে ধরা হবে।
যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কার নিয়েও কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক
ইউএনজিএ অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।
কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পেতে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ও ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেন, এসব বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।


