দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এই সময়ে নতুন করে ৩৯১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ২ জনের মধ্যে একজন ০ থেকে ৫ বছর বয়সী কন্যা শিশু এবং অন্যজন ৪৬ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন পুরুষ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
এ বছর এখন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৩৭০ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮ হাজার ৪৬০ জন এবং বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৮৮০ জন রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৩৯১ জন রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী ঢাকা বিভাগের, যেখানে ১৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এই বিভাগেই দুইজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বিভাগভিত্তিক সামগ্রিক তথ্যে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি ৩ হাজার ৩৭৯ জন এবং মৃত্যু ১৫ জন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে এ পর্যন্ত ভর্তি ২ হাজার ৩৭৫ জন ও মৃত্যু ২ জন, খুলনা বিভাগে ভর্তি ১ হাজার ২৩৮ জন ও মৃত্যু ৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ভর্তি ১ হাজার ৬২৪ জন ও মৃত্যু ৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ভর্তি ৩১২ জন ও মৃত্যু ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ভর্তি ৩১১ জন ও মৃত্যু ১ জন এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে যথাক্রমে ৫১ ও ৮০ জন ভর্তি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ঢাকা মহানগরীর হাসপাতালগুলোর মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সেখানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২২ জন ও মৃত্যু ৫ জন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সেখানে মোট ভর্তি ৩৭০ জন ও মৃত্যু ২ জন।
এ ছাড়া মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যেখানে মোট ভর্তি ৪১৮ জন ও মৃত্যু ২ জন। ঢাকার সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বমোট ৭১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন রোগী।
ঢাকা মহানগরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বমোট ৯৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৩৬ জন, যার মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৫৬ শতাংশ এবং নারী ৪৪ শতাংশ। তবে বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের ক্ষেত্রে পুরুষ ৬১ শতাংশ এবং নারী ৩৯ শতাংশ হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি, যা মোট মৃত্যুর ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ (১৭ জন নারী) এবং পুরুষ ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ (১৩ জন পুরুষ)।
সিটি করপোরেশন এলাকার ভেতরে এ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ২৩৫ জন আক্রান্ত ও ১৪ জন মারা গেছেন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে মোট ৭ হাজার ১২৬ জন আক্রান্ত ও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, জুনে ২ হাজার ৯০৭ জন আক্রান্ত ও ১৩ জনের মৃত্যুর পর চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৫ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬৬ জনে এবং মৃত্যু ১২ জনে পৌঁছেছে, যা ডেঙ্গুর তীব্র ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে নির্দেশ করে।


