বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা শুক্রবার। সনাতন সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব উদযাপিত হবে যথাযথ মর্যাদায়।
বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অগণিত ভক্ত জ্ঞানালোক প্রার্থনা করবেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। ‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে/বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যংদেহী নমোহস্তুতে’–এই মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ভক্তরা বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের কামনায় দেবীর আরাধনা করবেন।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। তিনি সনাতন সম্প্রদায়ের সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এ দেশে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে বসবাস করে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ধর্ম ও বর্ণভেদের ঊর্ধ্বে সকল মানুষের জন্য একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি।’
পূজা উপলক্ষে সারা দেশে সনাতন সম্প্রদায়, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাণী অর্চনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি ও আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজাকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ কর্মসূচি। জগন্নাথ হলকে কেন্দ্র করে রয়েছে ব্যাপক আয়োজন।
এ বছর জগন্নাথ হল প্রশাসনের কেন্দ্রীয় পূজাসহ মোট ৭৬টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন।
দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং রক্তদান কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি দর্শনার্থী শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য হল প্রাঙ্গণে বিভিন্ন রাইড, খেলনা এবং বিশুদ্ধ খাবারের দোকানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপউপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে জগন্নাথ হল প্রশাসন কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ পুরো হল প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
এ কাজে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শাহবাগ থানা ও ফায়ার সার্ভিস প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
এ ছাড়া ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বনানী ও রমনা কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে মণ্ডপে মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মণ্ডপে সন্ধ্যা আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
সরস্বতী পূজাকে ঘিরে ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা।


