২৪ বছর আগে ঢাকার নবাবগঞ্জ থানাধীন এলাকায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেকের এক লাখ টাকা জরিমানা, অনদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, সুজন, জুলহাস ও মাহাম্মদ।
রায়ে বিচারক আসামিদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে জরিমানার টাকা আদায়পূর্বক ভিকটিম বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এতথ্য নিশ্চিত করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি সুজন ও ও মাহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণা শেষে তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জুলহাস পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের ২২ মার্চ রাত ৮টার দিকে ভিকটিমের ৮ বছর বয়সী ফুপাতো বোন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে চাইলে ভিকটিম তার বসত বাড়ির পিছনে পাট কাঠির বেড়ার কাচা টয়লেটে নিয়ে যান। ফুপাতো বোনকে টয়লেটে বসিয়ে এজাহারকারী তার বাড়ির উত্তর পশ্চিম কোনে পৌঁছানোমাত্র আসামি সুজন পেছন দিক থেকে তাকে মুখ চেপে ধরে বাড়ির পেছনে উত্তর দিকে নিয়ে যায়। সেখানে আসামি জুলহাস ও মাহাম্মদ আগে থেকে অবস্থান করছিলেন। আসামিরা ভিকটিমকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে সোনাপুর সার্কিনের গরবাকান্দার বর্মিজ উদ্দিনের বোরো ধান ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণের পর ঘটনা কাউকে না বলার জন্য হুমকি দিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। মামলাটি বিচারকালে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।


