এই সেঞ্চুরিটা লিটন দাস কোথায় রাখবেন? এর আগেও পাঁচবার টেস্ট সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের সেঞ্চুরিটা স্পেশাল নিঃসন্দেহে। ১১৬ রানে পড়ে গেছে ৬ উইকেটে, সেখান থেকে টেইলএন্ডারদের নিয়ে জুটি গড়েছেন লিটন, পাননি মুশফিকুর রহিম-মেহেদী হাসান মিরাজদের সঙ্গ। তাতে অবশ্য দায়িত্ব বেড়েছে তার, খেলতে হয়েছে টেইলএন্ডারদের আড়াল করে। সেসবের মাঝেই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে লিটন ছুঁলেন তার ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেমেছে ২৭৮ রানে। জবাবে শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ২১ রান তুলেছে পাকিস্তান, দিন শেষ করেছে বাংলাদেশের চেয়ে ২৫৭ রানে পিছিয়ে থেকে,
এর আগে লিটন সেঞ্চুরিটা ছুঁয়েছেন ইনিংসে পাকিস্তানের সেরা বোলার খুররম শাহজাদকে আলতো অথচ দুর্দান্ত একটা ফরোয়ার্ড পাঞ্চে চার মেরে। ১৩৩ বলে নিজের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর ড্রেসিংরুম থেকে ভেসে এসেছে করতালির আওয়াজ, পুরো ডাগ আউট দাঁড়িয়ে ছিলে লিটনের সম্মানে। যৎসামান্য দর্শক যারা ছিলেন, তারাও ভেসেছেন উদযাপনের আনন্দে। তবে লিটন ছিলেন সাদামাটা, নির্লিপ্ত। আলতো হেসে হেলমেট খুলে ব্যাট উঁচিয়ে তাকিয়েছেন ড্রেসিংরুম পানেই।
সেঞ্চুরির পর আরো হাত খুলে খেলেছেন লিটন। ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ১৫৯ বলে ১২৬ রানের ইনিংস থেমেছে হাসান আলীকে পুল করে আবদুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ইনিংস সাজিয়েছেনও দারুন সব স্কয়ার কাট, স্কয়ার ড্রাইভ, পুল, হুক আর স্লগ সুইপে। অথচ অন্য প্রান্তে তার সাথে ছিলেন দুই টেইলএন্ডার তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলাম।
পকিস্তানও টেস্ট ক্রিকেটে লিটনের পছন্দের প্রতিপক্ষ। ছয় সেঞ্চুরির তিনটিই লিটন করেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে। সিলেট টেস্টের আগে সর্বশেষ দেখায় রাওয়ালপিন্ডিতেও সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি, সেই সেঞ্চুরির গল্প অবশ্য আরো দারুণ। কারণ ২৬ রানে ৬ উইকেট পড়েছিল বাংলাদেশের। পরে মিরাজকে সাথে নিয়ে দলকে উদ্ধার করেন লিটন ১৩৮ রানের ইনিংসে।
শনিবার অবশ্য পরিস্থিতি আরেকটু ভালো ছিল। লিটন যখন উইকেটে আসেন, তখন ১১০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ। বিপদ আরো বাড়ে দুই ওভারের ব্যবধানে মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজের বিদায়ে। পাকিস্তানের দুই পেস যুগল মোহাম্মদ আব্বাস আর খুররম শাহজাদের তোপে তখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট নেই বাংলাদেশের।
সেখান থেকে তাইজুল ইসলামের সাথে লিটন গড়লেন ৬০ রানের জুটি। যেখানে অবধারিতভাবেই লিটনের অবদান বেশি। তবে কত রানের জুটি গড়লেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল দুজন মিলে ১১৪ বল খেলা। তৃতীয় সেশনে অবশ্য সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়েছেন তাইজুল। তারপরেও বাংলাদেশকে থামাতে আরো ৬৪ রান খরচ করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। কারণ শরীফুলের সাথে ৭৩ রানের দারুণ এই জুটিতে দলকে ২৭৮ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন লিটন।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে দিনের প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে ১০১ রান তুললেও প্রথম তিন ব্যাটারকে হারায় বাংলাদেশ। মোহাম্মদ আব্বাসের জোড়া আঘাতে ফেরেন দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় আর অভিষিক্ত তানজিদ হাসান।
ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে খোঁচা মেরে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। মিরপুর টেস্টেও একইভাবেই দুই ইনিংসে উইকেট দিয়েছেন তিনি। অভিষিক্ত ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৩ চারে ৩৪ বলে করেছেন ২৬ রান। যদিও মাঝে হাসান আলীর বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে জীবন পেয়েছেন, তবে সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। মোহাম্মদ আব্বাসের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। লাঞ্চ ব্রেকের পর আব্বাস তার তৃতীয় শিকার বানিয়েছেন আগের টেস্টের সেরা ক্রিকেটার নাজমুল হোসেন শান্তকে। ৭৪ বলে ২৯ রান করে এলবিডব্লিউ হয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
৪১ বলে ২২ রান করে তিনে নামা মুমিনুল হক বোল্ড হয়েছেন শেহজাদের দারুণ এক ইনসুইংগারে। মুশফিকুর রহিমের উইকেটও পেয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। ৩৭তম ওভারের তৃতীয় বল তার পায়ে লাগার পর জোরালো আবেদনের মুখে আউট দেন আম্পায়ার রিচার্ড কেটেলবোরো। কিন্তু বল লেগ স্টাম্প লাইন মিস করছে মনে করায় রিভিউ নেন মুশফিক। সেখানেও দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্পের বাইর দিয়েই যেত। কিন্তু আম্পায়ার্স কলের কারণে আউটের সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। যদিও রিভিউ নষ্ট হয়নি বাংলাদেশের।
দলীয় ১১৬ রানের সময় শেহজাদের শর্ট লেংথের বল পুল করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬ বলে ৪ রান করে ডিপ ফাইন লেগে থাকা একমাত্র ফিল্ডার হাসান আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ডানহাতি ব্যাটার।


