সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল জাতিসংঘ

সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল জাতিসংঘ
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাষ্ট্র সফরের আগ মুহূর্তে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। আগামী সোমবার তার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে দেখা করার কথা রয়েছে।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, আল-শারার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে প্রস্তাব পাঠায় ট্রাম্প প্রশাসন। একই প্রস্তাবে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাবের ওপর থেকেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

প্রস্তাবটি ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে ১৪ ভোটে গৃহীত হয়। তবে প্রস্তাবের পক্ষে ভোটদানে বিরত ছিল চীন।

সিরিয়ার জাতিসংঘ দূত ইব্রাহিম ওলাবি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এটি সিরিয়ার নারী ও পুরুষদের জন্য এক সুখকর বার্তা, যারা তাদের মাতৃভূমি পুনর্গঠন ও জীবন পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে।’

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শারার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার অনেকটা প্রতীকী। কারণ তিনি সিরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যখনই বিদেশ সফর করেন, প্রত্যেকবারই তাৎক্ষনিকভাবে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হয়। অবশ্য এবার তার ওপর থেকে সম্পদ জব্দ ও অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে।

টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়ে আসছিল। ট্রাম্প গত মে মাসে ঘোষণা দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও সিরিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি তিনি (শারা) খুব ভালো কাজ করছেন। মধ্যপ্রাচ্য কঠিন অঞ্চল, আর তিনি একজন শক্ত মানুষ। কিন্তু আমার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক হয়েছে। সিরিয়াকে নিয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।’

আরও পড়ুন

‘আমরা সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছি যেন তারা দেশ পুনর্গঠনের একটি সুযোগ পায়’, বলেন ট্রাম্প।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এপি/ইউএনবি

প্রায় ১৩ বছর গৃহযুদ্ধের পর গত ডিসেম্বরে ইসলামপন্থী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর নেতৃত্বে বিদ্রোহী বাহিনীর ঝটিকা অভিযানে সিরিয়ায় আসাদ পরিবারের ৫৪ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটে। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ থেকে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট খ্যাত বাশার আল-আসাদ।

এরপর সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা নেন হায়াত তাহরির আল-শামের শীর্ষস্থানীয় নেতা আহমেদ আল-শারা। সংগঠনটি আগে নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল। ২০১৪ সালের মে মাস থেকে এই গোষ্ঠী জাতিসংঘের আল-কায়েদা ও আইএস সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা তালিকায় রয়েছে।

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর আল-কায়েদা ও এইচটিএস-এর মধ্যে কোনো ‘সক্রিয় সম্পর্ক’ দেখা যায়নি।

জাতিসংঘে চীনের প্রতিনিধিরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরবর্তী সময়গুলোতে সিরিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। এ কারণেই তারা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, ‘মস্কো প্রস্তাবটিকে সমর্থন করেছে কারণ এটি গুরুত্বপূর্ণভাবে সিরিয়ার জনগণের নিজস্ব স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলার সময়ও মিত্র আসাদকে কূটনৈতিকভাবে রক্ষা করেছিল রাশিয়া। এমনকি জাতিসংঘের একাধিকবার সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছিল।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর