গত বছর সারা দেশে ছয় হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ১১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। রোববার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই ছিল সবচেয়ে বেশি, যা মোট দুর্ঘটনার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। এ সময় মোট দুই হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় দুই হাজার ৯৯৩ জন নিহত এবং দুই হাজার ২১৯ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ১৯০ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, এক হাজার ৬৯১ জন চালক, এক হাজার ২১৬ জন পথচারী, ৫৫১ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৩২ জন শিক্ষার্থী, ১২৯ জন শিক্ষক, এক হাজার ৫৬ জন নারী, ৬২২ জন শিশু, ৬৯ জন সাংবাদিক, ১৫ জন চিকিৎসক, ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, পাঁচজন আইনজীবী, নয়জন প্রকৌশলী এবং ১৪১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।
তাদের মধ্যে ৩৫ জন পুলিশ সদস্য, ২০ জন সেনাসদস্য, একজন নৌবাহিনী সদস্য, তিনজন আনসার সদস্য, দুইজন র্যাব সদস্য, দুইজন ফায়ারসার্ভিস সদস্য, তিনজন বিজিবি সদস্য, ১০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৪ জন সাংবাদিক, ৪১৫ জন নারী, ৫৪৬ জন শিশু, ৬৩৩ জন শিক্ষার্থী, ১২২ জন শিক্ষক, ১৫৫৭ জন চালক, ২১৯ জন পরিবহন শ্রমিক, নয়জন প্রকৌশলী, পাঁচজন আইনজীবী, ১০৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ১৪ জন চিকিৎসক ও এক ১৪৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে দুই হাজার ৩৭৩টি মহাসড়কে, দুই হাজার ৮৮৭ টি আঞ্চলিক সড়কে, ৯৯৪টি গ্রামীণ সড়কে, ৫৮৩টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৭৪টি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
গত বছরে ৮১টি রেলক্রসিং দুর্ঘটনায় ১০৭ জন নিহত এবং ৬৩ জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া রেল ট্র্যাকে ট্রেনে কাটা পড়ে ২০৬টি দুর্ঘটনায় ২১১ জন নিহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছরে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় সাত শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। এসব দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও সড়কের নীতি পরিবর্তন না হওয়ায় দুর্ঘটনা ও যাতায়াতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। আরেক দফা বেড়েছে যানজট ও চাঁদাবাজির বৃদ্ধির কারণে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ভাড়া।


