যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ ও সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে পরিস্থিতি এখনো বিকাশমান বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার আরও পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করেছে। এরপর সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ এবং পরে ১৫ শতাংশ শুল্ক ঘোষণার বিষয়টি সামনে আসে, যা নিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া বাণিজ্যচুক্তির প্রভাব মূল্যায়নে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে ঘোষণার কথা শোনা গেলেও সরকারি পর্যায়ে কোনো লিখিত নথি পাওয়া যায়নি।
‘টেলিভিশনে যা দেখছি তার বাইরে সরকারি কোনো কাগজপত্র আসেনি, তাই পরিস্থিতিকে আমি বিকাশমানই বলব,’ বলেন তিনি।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করতে ১৫০ দিনের মধ্যে সে দেশের কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তির পক্ষে ও বিপক্ষে দিকগুলো সরকার খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
চুক্তিটি গোপন রাখা হয়েছিল কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আলোচনার সময় কিছু গোপনীয়তা চুক্তি ছিল এবং বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এ মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বিভিন্ন খাতের সমস্যা তুলে ধরেছেন বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে সেগুলোর দাম বাজারে স্বাভাবিক রয়েছে।
রমজান শুরুর আগে একসঙ্গে কেনাকাটার কারণে কিছু সবজির দাম বেড়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৪০ থেকে ৫০ টাকার লেবু সাময়িকভাবে ১২০ টাকায় উঠেছিল, তবে পরে আবার আগের দামে নেমে এসেছে।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে অনেক আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি এবং বর্তমান সরকার কাজ করে তা দেখাবে।


