সরকার গণভোটের নামে সংস্কারের কথা বলে মূলা ঝোলাচ্ছে –এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান সরকার গণভোটের নামে সংস্কারের কথা বলে মূলা ঝোলাচ্ছে। সংস্কারের যে কথা বলা হচ্ছে, সেটা পরিষ্কারভাবে মানুষকে বোঝাচ্ছে না। সংস্কারটা তাদের একটা অছিলা। তারা গণভোটের নাম করে “হ্যাঁ” জয়ী করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় থাকার অর্থ হলো এনসিপি ক্ষমতায় থাকবে। জামায়াত ক্ষমতায় থাকবে। সে কারনে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য তারা গণভোটের বাহানা নিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার সন্ধায় রংপুর নগরীর স্কাইভিউতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় প্রেসিডিয়াম সদস্য আজমল হোসেন লেবু, স্বেচ্চাসেবক পার্টির নেতা ফারুকসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জিএম কাদের বলেন, ‘মেটিকুলাস ডিজাইনের সর্বশেষ ডিজাইন হলো গণভোট। জনগন যদি গণভোটে “না” ভোটের বিষয়টি না বোঝে তাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণভোটে “হ্যা” জয়যুক্ত হলে নির্বাচনে যদি বিএনপি জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে সেই সরকারের হাতে কোনো ক্ষমতা থাকবে না। ক্ষমতায় থাকবে এনসিপি, জামায়াত, পুলিশ থাকবে, মিলিটারি থাকবে। ফলে ওনারা যখন কিছু করতে চাইবেন।’
‘যখন আপনারা বাঁধা দেবেন যে এটা ঠিক হচ্ছে না। তখন তারা ছাত্রশিবির নামিয়ে দেবে রাস্তায়। অস্ত্রসস্তসহ নামিয়ে দেবেন। এদের মেনে নেওয়া ছাড়া দেশের জনগণের কোনো উপায় থাকবে না। একটা ভয়ভীতির শাসন ব্যবস্থা তৈরি হবে। আতংকের শাসন ব্যবস্থা তৈরি হবে। গণভোটে যদি আমরা না বলি, তাহলে আমরা আতঙ্ক থেকে মুক্তি পাব। ভয়ভীতির শাসন থেকে মুক্তি পাব।’
জিএম কাদের বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগকর্তা দেশের জনগণ নয়, নিয়োগকর্তা হলো মেটিকুলাস বাহিনী। তারা মেটিকুলাস ডিজাইনের শেষ পর্যায় হলো গণভোট। শেষ পর্যায় হলো তারা ক্ষমতায় থাকবেন। যারা ইলেকটেড হবে, পার্লামেন্ট হবে; যারা সরকার গঠন করবেন। তাদের কোনো ক্ষমতা দেওয়া হবে না। তারা বলবে জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে। তখন তারা দেশ শাসন করবে।’
‘তখন দেশ হবে একটা সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ সম্মৃদ্ধ একটা দেশ। যেখানে পাকিস্তানের সঙ্গে কিছুটা মিলবে। তার মানে হলো একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ করে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এটাকে তারা ভুল বলছে। কাজেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে তারা বিষর্জন দিয়ে পাকিস্তানের আধিপত্যবাদ ধরনের একটি রাষ্ট্র তারা তৈরি করবে। এটা হলো মেটিকুলাইসলি ডিজাইন। এটাই হলো গণভোটে “হ্যা” বলা’ বলেন তিনি।
এর আগে, এদিন সন্ধায় তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুর-৩ আসনে প্রচারণার জন্য ঢাকা থেকে রংপুর আসেন।


