শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনার পর দেশটির সব কারাগারে মানবাধিকার কমিশনকে ‘অবাধ প্রবেশাধিকার’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
রাজধানী কলম্বোর উত্তরে নেগোম্বো কারাগারে গত রোববার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বন্দি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ২০ জন বন্দী ও আটজন কারারক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এই তদন্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তদন্ত অবশ্যই ‘দ্রুত, স্বাধীন ও স্বচ্ছ’ হতে হবে। তবে নেগোম্বো কারাগারের সহিংসতা এবং অন্যান্য কারাগারে কারারক্ষীদের হাতে বন্দিদের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক আচরণের’ খবরকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
শামদাসানি বলেন, ‘নিহত ও আহত বন্দি ও কারারক্ষীদের পরিবারের সত্য জানার এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার অধিকার রয়েছে।’
তিনি শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নেগোম্বো কারাগারসহ দেশের সব কারাগার ও আটককেন্দ্রে–যেখানে বন্দীদের স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নির্যাতন বা দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে–সেখানে শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার কমিশনকে অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, নেগোম্বো কারাগারের সহিংসতা শ্রীলঙ্কার আটক ব্যবস্থা-সংক্রান্ত কাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিচার শুরুর আগে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি এবং অপর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা।
এ ছাড়া মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে অস্বাভাবিক সংখ্যক মানুষকে কারাগারে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের অনেকের ক্ষেত্রে কারাবন্দি করার পরিবর্তে স্বাস্থ্যকেন্দ্রিক পুনর্বাসন ব্যবস্থার সুফল পাওয়া উচিত।


