গত বছরের জানুয়ারি থেকে বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১০ লাখ নারী ও কিশোরী জরুরি মানবিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শুক্রবার এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ‘ইউএন উইমেন’-এর নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে প্রয়োজন দ্রুত বাড়লেও অর্থায়নের অভাবে নারীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে।
জেনেভা থেকে এএফপি জানিয়েছে, গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন। একই সঙ্গে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দাতা দেশও তাদের সহায়তা বাজেট হ্রাস করেছে।
ইউএন উইমেনের মানবিক কার্যক্রম বিভাগের প্রধান সোফিয়া কালতোর্প এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা নারী সংগঠনগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটের সামনের সারিতে কাজ করছে। এসব সংগঠনের জন্য প্রত্যাহার করা প্রতিটি ডলার মানে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তি, বাস্তুচ্যুত মা ও স্কুলছুট কিশোরীদের কাছ থেকে সহায়তা কেড়ে নেওয়া।
ইউএন উইমেন জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে সশস্ত্র সংঘাত এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১২ কোটি নারী ও কিশোরীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা প্রয়োজন। সংকটকবলিত ৫২টি দেশের নারী নেতৃত্বাধীন ও নারীর অধিকারভিত্তিক ৮৫৫টি সংগঠনের মতামতের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৮৪ শতাংশ সংগঠনের সেবার চাহিদা বেড়েছে। প্রতি ১০টি সংগঠনের প্রায় নয়টি বর্তমান চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি পাঁচটি সংগঠনের মধ্যে দুটি আগামী এক বছরের মধ্যে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।
বিনাশ্রমে সেবা ও কর্মীদের অবসাদ: সংগঠনগুলো টিকিয়ে রাখতে কর্মীরা নিজেদের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। ইউএন উইমেন জানায়, নারী নেতৃত্বাধীন ৬৫ শতাংশ সংগঠনে কর্মীরা কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় অর্ধেক সংগঠন জানিয়েছে, কর্মীদের মধ্যে মানসিক ও শারীরিক অবসাদ বাড়ছে।
বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংঘাতজনিত যৌন সহিংসতার ঘটনা দ্বিগুণ হয়েছে, অথচ ঠিক সেই সময়ই ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার ব্যবস্থাগুলো ভেঙে পড়ছে। জরিপভুক্ত ৮৬ শতাংশ সংগঠন জানিয়েছে, তাদের কর্মএলাকায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে।
সহায়তা কমানোর প্রভাব তুলে ধরে সংস্থাটি জানায়, এর ফলে সহিংসতার শিকার কোনো নারী হয়তো আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ পাবেন, কোনো গর্ভবতীকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হবে, কিংবা কোনো মা তার সন্তানদের জন্য খাদ্য সহায়তা পাবেন না।
ইউএন উইমেন আরও বলেছে, নারী সংগঠনগুলোর বিলুপ্তি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন বিশ্বজুড়ে নারী অধিকারের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জোরালো হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতি পাঁচটি সংগঠনের একটি নারী নেতৃত্ব ও লিঙ্গসমতার কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং অর্ধেকের বেশি সংগঠন জানিয়েছে, স্থানীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের অংশগ্রহণ কমে গেছে।


