দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সর্বজনীন পেনশন স্কিমের প্রগতি প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় চার কোটি পরিবারের সদস্যদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে বুধবার অনুষ্ঠিত উচ্চ-স্তরের পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সচিব নাজমা মোবারেক সভাপতিত্ব করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভার মূল লক্ষ্য ছিল সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বেসরকারি খাতের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি ত্বরান্বিত করা।
সচিব মো. সুরাতুজ্জামান, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান, সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি উপস্থাপন করেন এবং প্রগতি স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত বেসরকারি খাতের কর্মী অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। প্রগতি স্কিম বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য টেকসই সমাধান হিসেবে কাজ করছে, যেখানে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন, আজীবন পেনশন সুবিধা এবং আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য কভারেজ অন্তর্ভুক্ত।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে চারটি স্কিম পরিচালনা করছে। প্রগতি স্কিম মূলত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও মালিকদের জন্য, যেখানে মাসিক চাঁদা সমানভাবে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান ভাগাভাগি করে। সুরক্ষা স্কিম কৃষক, রিকশাচালক, জেলে, তাঁতী ও শ্রমিকদের মতো অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য।
সমতা স্কিম নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য, যেখানে সরকার সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেয়। প্রবাসী স্কিম বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য, যারা বিদেশি রেমিট্যান্স বা স্থানীয় ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করতে পারেন এবং দেশে ফেরার পর স্থানীয় মুদ্রায় পেনশন পান।
প্রগতি স্কিমের আওতায় মাসিক চাঁদা এক হাজার থেকে পনেরো হাজার টাকা পর্যন্ত। অবসরপ্রাপ্তরা আজীবন পেনশন পাবেন এবং চাঁদা ও পেনশন উভয়ই করমুক্ত। ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে পেনশনধারীরা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ গ্র্যাচুইটি পেতে পারবেন। স্কিমের সমস্ত বিনিয়োগ রাষ্ট্রের গ্যারান্টিযুক্ত।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩০ মে ২০২৬ পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩০ জন নিবন্ধিত ছিলেন, মোট চাঁদা প্রায় ২৬০ কোটি টাকা এবং ফান্ডের আকার প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ৪৮টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এবং ২৪টি ব্যাংক সক্রিয়ভাবে চাঁদা সংগ্রহ ও প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি ও সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
সভার সমাপনী বক্তব্যে নাজমা মোবারেক নির্দেশ দেন, প্রতিটি শাখায় ইউপিএস ডেস্ক স্থাপন, ব্যানার প্রদর্শন, স্কিমকে ব্যাংকের মার্কেটিং কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে প্রচার এবং সকল বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রগতি স্কিমে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। সভা পরিচালনা করেন সহকারী মহাব্যবস্থাপক আয়েশা হক।


