ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাক্তন শিক্ষার্থী জিনিয়া তাসনিমের সনদপত্র যাচাই সংক্রান্ত ফি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে আলোচনার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রচারিত তথ্যকে ‘উদ্দেশ্যমূলক’ দাবি করে রোববার জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুইডেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী জিনিয়া তাসনিমের সনদ যাচাইয়ের ফি নিয়ে প্রচারিত সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সনদ যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করে না। এ ধরনের কাজ মধ্যস্থতাকারী তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড এডুকেশন সার্ভিসেস (ডব্লিউইএস), ফার্স্ট অ্যাডভান্টেজ, কোয়ালিফিকেশন চেক, ডেটা ফ্লো, এএমএস ইন্ডিয়া ও ইউনিভার্সাল হিউম্যান রিসোর্সেসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত ফি দিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন করেন। পরে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ৫০ ডলার ফিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সনদ যাচাইয়ের জন্য ইমেইল পাঠায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাবির সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সনদ যাচাইয়ের জন্য জনপ্রতি ৫০ ডলার ফি নির্ধারিত রয়েছে। এ ফি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান দেয়।
সনদ যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, ফি পাওয়ার পর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে সনদ যাচাই করা হয় এবং পরে রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ইমেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে যাচাই প্রতিবেদন পাঠানো হয়।
জিনিয়া তাসনিমের বিষয়ে বলা হয়, তার সনদ যাচাইয়ের জন্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইউএইচআর’ গত ৪ মার্চ ইমেইল পাঠালেও নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেনি। পরদিন জিনিয়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরে উপস্থিত হয়ে ফি দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ কারণে একই দিন ফিরতি ইমেইলে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ফি চাওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় আরও দাবি করে, এ প্রক্রিয়ায় কোনো সময়ক্ষেপণ বা দায়িত্বে অবহেলা করা হয়নি। ফি জমা দেওয়ার যাবতীয় নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে, নাফিজ বশির আলিফ নামে আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগও ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বোলোনিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এ বিষয়ে কোনো ইমেইল পাওয়া যায়নি।
তবে, এ বিষয়ে নাফিজ জানান, তিনি এখনো অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী এবং তাকে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইমেইল ও ফোন নম্বর বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করেন।
শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় এবং এ ব্যাখ্যার মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করে।


