দিল্লিতে শুক্রবার হতে যাওয়া বহুল আলোচিত সংবাদ সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন না ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কথা বলার জন্য সেখানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সূত্রের খবর, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা প্রচার করা হবে।
সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছে। এর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ অ্যাট দ্য ক্রসরোডস’ বা সংকটকালে বাংলাদেশ। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই হওয়ার কথা ছিল ভারতীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়। অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে জানান, শেখ হাসিনা এই অনুষ্ঠানে সশরীরে বা ভার্চ্যুয়ালি–কোনোভাবেই যোগ দিচ্ছেন না। আরাফাত বলেন, শেখ হাসিনা একটি অডিও বার্তা পাঠাবেন, যা অনুষ্ঠানে বাজিয়ে শোনানো হবে। আরাফাত নিজেও এই অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন বলে জানান।
এই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রটি ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, ক্ষমতাচ্যুত হওয়া সত্ত্বেও সেখানে শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইভাবে মোহাম্মদ এ আরাফাতকে ‘তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী’ এবং মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে ‘শিক্ষামন্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে, যদিও বর্তমানে তারা এই পদে নেই।
আরাফাত ও নওফেল ছাড়াও অনুষ্ঠানে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এবং বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইউএসএ-এর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এ সিদ্দিক উপস্থিত থাকবেন।
প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ার সভাপতি গৌতম লাহিড়ী জানান, তার কাছে শেখ হাসিনার অডিও বার্তাটি রয়েছে। গৌতম লাহিড়ী আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে নামার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইউনূসকে সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানটি শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স (টুইটার) এবং ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এদিকে, এই অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও বিবিসির হিন্দি সংস্করণকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতের কাছ থেকে তিনি আরও ‘বিচক্ষণ বা মার্জিত প্রতিক্রিয়া’ আশা করেছিলেন।


