শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জবাবদিহিমূলক সরকার
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। তিনি বলেন, ‘জনগণের সমস্যা লাঘব করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করাই এই সরকারের প্রথম ও প্রধান কাজ।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সরকার অতীতের মতো কোনো শাসক গোষ্ঠী নয়, বরং সেবক হিসেবে কাজ করতে চায়।
সংসদকে সফল করার আহ্বান
বিরোধী দলের কাছে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা ব্যর্থ হওয়া মানেই আমার ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। তাই আসুন, আমরা একে অপরকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতায় না নেমে একসঙ্গে এই সংসদকে সফল করি।’
তার মতে, দেশের প্রতিটি কোণ থেকে মানুষ এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে, তাই কোনোভাবেই একে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
কৃষি ও কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে প্রধানমন্ত্রী কৃষিখাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী মেনিফেস্টো অনুযায়ী ইতোমধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হয়েছে। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্য ও গবাদি পশু পালনকারীসহ সকল পর্যায়ের কৃষকের কাছে পর্যায়ক্রমে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনে সংসদ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান।
শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন
শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে থাকার সময় দেখেছি সেখানকার স্কুল ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশ কতটা উন্নত। আমার দেশের বাচ্চারা কেন এমন সুযোগ পাবে না?’
এই স্বপ্ন পূরণে আগামী জুলাই মাস থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা প্রদানের ঘোষণা দেন তিনি। একটি নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
নারী শিক্ষার প্রসারে প্রধানমন্ত্রী এক ঐতিহাসিক ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করেছিলাম। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে।’
এ ছাড়া মেধাবীদের জন্য উপবৃত্তি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন।
দুর্যোগ মোকাবিলায় পদক্ষেপ
দেশের সাম্প্রতিক বন্যা ও জলবদ্ধতা নিয়ে সরকারের তৎপরতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের জলবদ্ধতা এবং নেত্রকোনা-সুনামগঞ্জের বন্যা কবলিত এলাকার জন্য ইতোমধ্যে ত্রাণমন্ত্রী ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে এটি সত্যিকার অর্থেই জনগণের সরকার।
বিরোধী দলের সঙ্গে যৌথ কর্মপন্থা
জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলের গঠনমূলক প্রস্তাবের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘উভয় পক্ষ মিলে যৌথ কমিটি গঠন করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে দেশের মানুষের স্বস্তির জন্য যেকোনো সমস্যার সমাধান বের করা সম্ভব।’
তিনি বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতাকে তাদের এলাকার সমস্যার তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে এবং বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ আগামীর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


