রাজধানীর মানুষের কাছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর খাবারের স্বাদ পৌঁছে দিতে আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলা-২০২৫’।
শুক্র ও শনিবার মিরপুর ১৩ নম্বরে অবস্থিত পার্বত্য বৌদ্ধ সংঘ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বসবে এই মেলা ।
উন্নয়ন সংগঠন নাগরিক উদ্যোগ এবং আদিবাসী সুহৃদ–এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলায় পাওয়া যাবে পাবর্ত্য অঞ্চলের পাশাপাশি সমতলের মান্দি, মনিপুরী, সাঁওতাল ও রাখাইন জনগোষ্ঠীর খাবার।
থাকবে রাজধানীর ভোজন রসিকদের কাছে সুপরিচিত পাহাড়ি খাবারের রেস্তোরাঁ ‘হেবাং’ও।
আয়োজকরা বলছেন, বিশেষ রন্ধনপ্রণালী ও তেল-মশলামুক্ত খাবার হওয়ার কারণে দেশের আদিবাসী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের খাবারের প্রতি অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের বেশ আগ্রহ রয়েছে। সে কারণেই এই আয়োজনের খবরে প্রচুর সাড়া পাচ্ছেন তারা।
মেলায় পাওয়া যাবে পাহাড়ের জনপ্রিয় বাঁশকোড়ল, কলা পাতায় রান্না করা বিভিন্ন পদের হেবাং, পাহাড়ি মুরগি ও কাপ্তাই হ্রদের মাছসহ জুমে চাষ হওয়া সবজি দিয়ে তৈরি নানা ধরনের মুখরোচক খাবার। এছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের জনপ্রিয় খাবার পাজনের স্বাদও নিতে পারবেন মেলায় আসা দর্শনার্থীরা।

সমতলের আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় খাবারের পসরা সজিয়ে বসবেন মনিপুরী, গারো ও রাখাইনরা। থাকবে কালো ও সাদা বিন্নি চালের বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক পিঠা, হালে বাঙালিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা মুন্ডি, টাটকা ফল দিয়ে তৈরি নানা ধরনের লাকসো।
খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিন্নি চাল, পাহাড়ি মধু, জুমের ফল-সবজি; সবই মিলবে মেলায়। পাওয়া যাবে শুটকি মাছও।
মেলার অন্যতম আয়োজক নাগরিক উদ্যোগ বলছে, দেশের শহুরে নাগরিক জনগোষ্ঠীকে আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জুম কৃষির বিভিন্ন শস্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই তাদের লক্ষ্য। টানা চার বছর ধরে আয়োজিত হচ্ছে এই মেলা। এরই মধ্যে রাজধানীবাসীর কাছে বেশ সমাদৃতও হয়েছে এই আয়োজন।
আয়োজক মেন্টল চাকমা বলেন, ‘আমাদের দেশে বহুত্ববাদী সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আদিবাসীদের বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার। এর সঙ্গে বাঙালি জনগণের খাদ্যাভাসের মেলবন্ধন ঘটানোর লক্ষ্যে আদিবাসী খাদ্য ও শস্য মেলার মাধ্যমে আমরা প্রয়াস চালাচ্ছি।’
মেলার পাশাপাশি প্রতি সন্ধ্যায় থাকবে আদিবাসী সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।


