ঢাকার মিরপুরের শাহ আলী মাজারে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর।
দলের মতে, ‘ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতিকেই নির্দেশ করে না, বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও জননিরাপত্তার জন্যও অশনিসংকেত। কোনো মতপার্থক্য কিংবা চর্চাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হামলার পথ কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’
প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলী মাজারে একটি সাপ্তাহিক জলসা হয়। সেখানে ঢাকা এবং দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন আসেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে সেই জলসা চলাকালে হঠাৎ লাঠিসোঁটা হাতে কিছু লোক এসে মারধর শুরু করে।
সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, মাজারের লোকদের বেদম পেটানো হয়, গাঁজা সেবনের অভিযোগ এনে গালাগাল করা হয়।
সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর আহ্বান জানায়, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এনসিপি-ঢাকা মহানগর উত্তর মনে করে, ‘মাজারকে কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনা বা চর্চার কেন্দ্র হিসেবে দেখার পরিবর্তে, এটি যেন ধর্ম, গোত্র ও মতভেদ নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য সামাজিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উন্মুক্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা জরুরি। যুগ যুগ ধরে এ ধরনের স্থান আমাদের সমাজে পারস্পরিক সহাবস্থান, শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক সংযোগের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করে এসেছে।’
একইসঙ্গে তাদের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থী, ভক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য মাজার এলাকাকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সহনশীল আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এসব কেন্দ্রকে ঘিরে যেন ভয়, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েরই দায়িত্ব।
এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে শান্ত, সংযত ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সরকার এবং জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কথাও বলেছে তারা।


