সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ‘অশালীন ও আপত্তিকর’ পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোটিশ পাঠিয়ে এসব পোস্ট, ভিডিও ও মন্তব্য সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের নোটিশ পাওয়ার পর অধিকাংশ চিহ্নিত ভিডিও, পোস্ট ও মন্তব্য ইতোমধ্যে সরিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলো। নতুন করে এ ধরনের কোনো কনটেন্ট প্রকাশিত হচ্ছে কি না, তা নজরদারিতে একটি বিশেষ পুলিশ দল কাজ করছে। নতুন কনটেন্ট শনাক্ত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মকে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।
৩৭ দিনব্যাপী ছাত্র আন্দোলন শেষ হওয়ার পরই এ অভিযান শুরু হয়। শনিবার আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আন্দোলনের অন্যতম দাবির মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, যা সরকার মেনে নেওয়ার পর আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও সিজেপি নতুন কয়েকটি দাবি তোলে। এর মধ্যে ছিল নিট পরীক্ষার্থীদের আত্মহত্যায় নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র্যাফ) ও পুলিশের প্রকাশ্য ক্ষমা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার।
সংবিধান ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়ন করবে, এই ‘আশ্বাসের ভিত্তিতে’ আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দলের আরেক নেতা রাঙ্কা দাবি করেন, সরকার আত্মহত্যাকারী পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং দেশজুড়ে আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।
গত মে মাসে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ক্ষোভ পরে পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়। জুনে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে সিজেপি। পরে আন্দোলনে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক যোগ দিলে তা আরও গতি পায়।
গত ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সে সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ করলে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের চলমান অভিযানের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি সিজেপি।


