গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ, ইউক্রেনের কাছে ব্যাখ্যা চাইল দ. কোরিয়া

গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগ, ইউক্রেনের কাছে ব্যাখ্যা চাইল দ. কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের তথ্য প্রকাশ এবং পরে বিষয়টি কোনো গোপনীয় চুক্তির আওতাধীন ছিল না বলে দাবি করার ঘটনায় ইউক্রেনের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে ক্ষমা দাবি করেছে সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগবিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব সিওং গি-হং রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইউক্রেন একতরফাভাবে বিষয়টি প্রকাশ করেছে এবং পরে গোপনীয়তা চুক্তি ছিল না বলে যে ভুল ঘোষণা দিয়েছে, তাতে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় গভীর অনুশোচনা জানিয়েছে।’ প্রয়োজনে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার পর্যালোচনা করছে বলেও জানান তিনি।

সিওংয়ের বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়, কিয়েভ বিভিন্ন মাধ্যমে সিউলের সঙ্গে ওই যুদ্ধবন্দিদের হস্তান্তর নিয়ে বারবার আলোচনা করেছে। তারাই গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছিল। কারণ, কিয়েভ ইউক্রেনীয় বন্দিদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ওই সেনাদের বিনিময়ের সুযোগ হারিয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ হলে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে সমালোচনা তৈরি হতে পারতো। সেই শঙ্কা থেকেই গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়।

তিনি বলেন, যুদ্ধবন্দিদের নিরাপত্তা, তাদের পরিবারের সুরক্ষা এবং কূটনৈতিক ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় দক্ষিণ কোরিয়া হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, পূর্ব আলোচনা ছাড়াই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বক্তব্যে উত্তর কোরিয়ার দুই যুদ্ধবন্দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তরের বিষয় প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে সিউল আপত্তি জানালে কিয়েভ গোপনীয়তা চুক্তির অস্তিত্ব অস্বীকার করে।

সিওং বলেন, ‘ইউক্রেনের এই অস্বীকার দুই দেশের সরকারের মধ্যে আস্থার সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’

আরও পড়ুন

তবে সিউলে ইউক্রেনের দূতাবাস এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেন উত্তর কোরিয়ার আটক দুই সেনাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠিয়েছে। রাশিয়ার হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সময় ওই দুই সেনাকে আটক করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

জবাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছিলেন, গোপনীয়তা চুক্তি লঙ্ঘন করে ইউক্রেন ওই হস্তান্তরের বিষয় প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লি বলেন, সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ না করাই সব দিক থেকে উপযুক্ত ছিল এবং দুই পক্ষই এটি গোপন রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল।

তিনি লেখেন, ‘গোপনীয়তা চুক্তি থাকা সত্ত্বেও ইউক্রেনীয় পক্ষ কী পরিস্থিতিতে বিষয়টি প্রকাশ করেছে, তা আমি জানি না। তবে এ ঘটনায় আমি গভীরভাবে হতাশ।’

কিয়েভ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেন ওই দুই উত্তর কোরীয় সেনাকে আটক করে। ২০২৪ সালে পিয়ংইয়ং রাশিয়াকে সহায়তা করে যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার পর থেকে তারা ছিল জীবিত আটক হওয়া প্রথম উত্তর কোরীয় সেনা।

এর আগে দক্ষিণ কোরিয়া ওই দুই সেনার দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানায়। কারণ হিসেবে তাদের নিরাপত্তা এবং উত্তর কোরিয়ায় থাকা পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়ার এক বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতার তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই সেনা দক্ষিণ কোরিয়ায় যেতে আগ্রহ প্রকাশ করার পর সিউল ও কিয়েভ তাদের হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছিল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad