রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত রাকিবুল ইসলাম (২৫) মারা গেছেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত রাকিবুল ইসলাম একজন ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর ছিলেন। তিনি শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম তরিকুল ইসলাম খোকন। তারা পুরান ঢাকার নিমতলি এলাকায় থাকেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ মিনার এলাকায় হঠাৎ গুলির ঘটনা ঘটে। এ সময় রাকিবুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন একজন সন্দেহভাজন যুবককে ধরে ফেলে। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রক্টরিয়াল টিম তাকে শাহবাগ থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, গুলির ঘটনার খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী জড়িত নয়। আটক ব্যক্তি ও আহত ব্যক্তি দুজনই বাইরের।
নিহতের বন্ধু মো. রনি জানান, রাতে রাকিবসহ কয়েকজন বন্ধু শহীদ মিনারের পাশের একটি চায়ের দোকানে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় এক যুবক তাকে ডেকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে শহীদ মিনারের উপরে গিয়ে দেখেন, রাকিব রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিঠু ফকির জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় রাকিবকে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার পরপরই সেখানে থাকা লোকজন এক যুবককে আটক করে উল্লেখ করে তিনি জানান, রাকিবের মাথায় একটি গুলিসহ পিঠের বাম ও ডান পাশে আরও দুটি গুলির ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এছাড়া শরীরের অন্তত ছয় থেকে সাতটি স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


