শরীয়তপুরের নড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ বৈশাখীপাড়া এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সন্দেহজনক উপস্থিতির দায়ে ওই কার্যালয় থেকে আটক এক পোলিং কর্মকর্তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম গোলাম মোস্তফা। তিনি নড়িয়ার হাজী সৈয়দ আহম্মদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং আসন্ন নির্বাচনে উপজেলার পঞ্চপল্লী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির বিচারক সুজন মিয়া এ সাজা প্রদান করেন। সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক গোলাম মোস্তফাকে নড়িয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অভিযান ও উদ্ধার
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নড়িয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ওই নির্বাচনী কার্যালয়ে টাকা বিতরণ করা হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, ল্যাপটপ, হার্ডডিস্ক এবং টাকা বিতরণের একটি তালিকা জব্দ করা হয়।
নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকি দাস জানান, “টাকা বিতরণের খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। সেখানে একজন সরকারি শিক্ষক তথা পোলিং কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়। তিনি ওই স্থানে উপস্থিতির কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।”
জামায়াত ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের মিডিয়া সেলের প্রধান মাসুদ কবির এই অভিযানকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “১৩৬টি কেন্দ্রের কর্মীদের যাতায়াত ও খাবার খরচের জন্য ওই টাকা রাখা ছিল। প্রশাসন বিএনপির অভিযোগের ভিত্তিতে অন্যায়ভাবে এই অভিযান চালিয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, অভিযানের সময় বিএনপি সমর্থকরা তাদের নেতা-কর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছে।
অন্যদিকে, এ ঘটনার পর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান দাবি করেন, জামায়াত টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।


