প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ৮০তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
তিনি যাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী, নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক, চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং উরুগুয়ের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় করেন ইউনূস। সেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সাধারণ নির্বাচন এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের প্রসার নিয়ে তাদের সংলাপ হয়।
ইউনূস আশ্বাস দেন, তার সরকার দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চান।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ স্মরণ করেন, তার নির্বাচনী এলাকাসহ অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশিদের অবদান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগে তিনি ভাষা শহীদ দিবসের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন।
পরে মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠক করেন নেদারল্যান্ডসের রানী ম্যাক্সিমার সঙ্গে, যিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উন্নয়নের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন বিষয়ে বিশেষ দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আলোচনায় বৈশ্বিক স্বাস্থ্যবীমা সম্প্রসারণ, বিশেষত গ্লোবাল সাউথ অঞ্চলে, গুরুত্ব পায়।
তারা জীবন ও স্বাস্থ্যবীমা, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় এবং পেনশন স্কিমসহ আর্থিক খাতে উদ্ভাবনের দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্যসেবা চলাকালে ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি প্রস্তাব করেন, ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদেরকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে, যা অসংখ্য প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম।
আলোচনায় ইউনূস বৈশ্বিক ওষুধশিল্পের পুনর্গঠনের আহ্বান জানান এবং সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আরও বেশি ওষুধ উৎপাদনের প্রস্তাব দেন।
‘সামাজিক ব্যবসায়িক ওষুধ কোম্পানিগুলো টিকা উৎপাদন করলে তা সাশ্রয়ী হবে,’ বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা রানী ম্যাক্সিমাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে তার কন্যা ও নেদারল্যান্ডসের রাজকুমারী ক্যাথারিনা-আমালিয়াও উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও ইউনূস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রস আধানোম গেব্রেইয়েসুসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যৌথ অগ্রাধিকার ও সাম্প্রতিক বৈশ্বিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
দিনের পরের ভাগে প্রধান উপদেষ্টা আরও দুটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন—একটি ফ্যাশন ফর ডেভেলপমেন্ট এবং অন্যটি সামাজিক উদ্ভাবনে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা নিয়ে।


