আগামী ৩০শে এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করবেন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দেওয়ার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে সোমবার রমজানের আবহেই মন্ত্রণালয়ে দেশের সব জেলার ডিসি, ইউএনও এবং জেলা ক্রীড়া অফিসারদের নিয়ে এক বিশেষ প্রস্তুতি সভা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী আকস্মিকভাবেই পরিদর্শনে যান দেশের ফুটবলের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে। মাঠের ভেতরের জীর্ণ দশা আর বাইরের পরিবেশ দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ঈদের পর বড় ধরনের সংস্কার ও শৃঙ্খলা ফেরানোর ঘোষণা দেন।
ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামকে দেশের ফুটবলের আঁতুড়ঘর বলা হলেও বর্তমানে এর চারপাশের পরিবেশ কোনোভাবেই ক্রীড়াবান্ধব নয়। স্টেডিয়াম সংলগ্ন দোকানের ভিড় আর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে আক্ষেপ বহুদিনের। প্রতিমন্ত্রী সরেজমিনে ঘুরে দেখে উপলব্ধি করেছেন যে, এখানে আন্তর্জাতিক মানের কোনো পরিবেশ অবশিষ্ট নেই। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যবসায়িক স্বার্থের চেয়ে খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই তাঁর কাছে মুখ্য। আমিনুল হক বলেন, ‘ঢাকা স্টেডিয়ামের যে পরিবেশ, সেই পরিবেশটি আসলে এখন নেই। সামনে ঈদ, আমরা চেষ্টা করব ঈদের পরবর্তীতে দৃঢ়হাতে কীভাবে আমাদের এই স্টেডিয়ামের যারা দোকান বরাদ্দ নিয়েছে, তাদের সাথে আমাদের যে নীতিমালা রয়েছে সেই অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে।’
স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সটি নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছেন প্রতিমন্ত্রী। দেশের প্রেক্ষাপটে এই খেলার কার্যকারিতা এবং এর জন্য বরাদ্দকৃত বিশাল জায়গা নিয়ে তাঁর ভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি মনে করছেন, গুটিকয়েক মানুষের জন্য বিশাল জায়গা আটকে না রেখে এখানে ইনডোর গেমস বা জিমন্যাসিয়ামের সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। রোলার স্কেটিংয়ের বর্তমান স্থাপনা নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, ‘রোলার স্কেটিং আসলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই মুহূর্তে কোনো উপযুক্ত পারফর্ম করার মতো সুযোগ-সুবিধা নেই। আমি শুনেছি বিগত সময়ে জোর করে তারা এটিকে একটি স্থাপনা হিসেবে তৈরি করেছে। এটিকে বাদ দিয়ে আমরা ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ বা ভালো জিমন্যাসিয়াম তৈরির মাধ্যমে নতুনভাবে কিছু করার চিন্তা করছি।’
স্টেডিয়াম এলাকার সুইমিং পুলটিও বর্তমানে পরিত্যক্তপ্রায়। সাঁতারুরা সেখানে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পান না বললেই চলে। এই অবকাঠামোটিকে কার্যকর করতে আধুনিক শেড নির্মাণসহ পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের পরিকল্পনা হাতে নিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (এনএসসি) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর মতে, কেবল অবকাঠামো থাকলেই হবে না, সেখানে খেলার পরিবেশও থাকতে হবে। তিনি বলেন, ‘সুইমিং পুলের যে অবস্থা সেখানে আসলে সুইমিং হয় না। আমরা সেই পরিবেশটি ফিরিয়ে আনতে চাই। সেখানে যদি উপরে কোনো শেড দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে পুরো বিষয়টি একটি পরিকল্পনা আকারে নিয়ে আসতে আমি নির্বাহী পরিচালককে বলেছি।’
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, ঈদের পর পর্যবেক্ষক টিমের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিটি কাজ দৃশ্যমান হবে। জাতীয় স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবেন না তিনি


