গত দেড় বছরে রাষ্ট্র সংস্কারে যতটা অগ্রগতি দেখা গেছে তার থেকে ঘাটতির তালিকাই বড় দেখা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের চিত্র বিশ্লেষণ করে একথা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘যতটুকু অগ্রগতি রাষ্ট্র সংস্কারে পরিলিখিত হয়েছে, তার চেয়ে ঘাটতির তালিকাই বড়। রাষ্ট্র যতটুকু শক্তিশালী হতে পারত, ততটুকু হয়নি।’
জবাবদিহিমূলক যে প্রস্তাবনাগুলো ছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নে স্পষ্ট অনাগ্রহ দেখা গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্ট উপেক্ষা করায় জুলাই সনদ দুর্বল হয়েছে এবং জনগণের মধ্যে এই সনদ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।
আশু বাস্তবায়নের জন্য যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়ন পরিলক্ষিত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যেগুলো হয়েছে, সেগুলোর বড় অংশই ছিল লোক দেখানো। এখানে মূল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে আমলাতন্ত্র। বিচার ও প্রতিশোধকে একাকার করে ফেলা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। আগে যেখানে একচেটিয়া প্রভাব ছিল, এখন সেখানে ত্রিদলীয় প্রভাব দেখা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ করার প্রবণতা দেখা গেছে এবং দায়িত্বশীলদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বাস্তবায়নে অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে, যদিও এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ জবাবদিহিমূলক সংস্কারের অংশ।’


