সাতক্ষীরা ও মেহেরপুরে বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আলাদা আলাদা জায়গায় আরও চারটি গরুর মৃত্যুসহ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সাতক্ষীরায় বজ্রপাতে এক নারী আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজাবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কামরুন নাহার সাতক্ষীরা জজকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি এলাকার ক্রিকেট প্রশিক্ষক একরামুল ইসলাম লালুর স্ত্রী।
নিহতের ভগ্নিপতি ফাহিমুল হক কিসলু জানান, রাত ৮টার দিকে তিনি বাড়ির সামনে আম বাগানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে স্বজনরা উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
মেহেরপুরে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আলাদা জায়গায় চারটি গরুর মৃত্যুসহ আহত হয়েছেন আরও দুইজন।
সোমবার বিকাল ৫টার দিকে জেলার সদর ও গাংনী উপজেলার আলাদা আলাদা জায়গায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুর রশিদ মেহেরপুর সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। আহতরা হলেন গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের ডোবাপাড়া এলাকার রবিউল ইসলাম (৭০) এবং ভরাট দুর্লভপুর গ্রামের এনামুল হকের মেয়ে খাদিজা খাতুন (১৩)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকালে সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামের ভেদাগাড়ির মাঠে মরিচ গাছ লাগানোর কাজ করছিলেন কৃষক আব্দুর রশিদ। এ সময় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের ডোবাপাড়ার চামড়ুখালি মাঠে গরু চরাচ্ছিলেন রবিউল ইসলাম। বজ্রপাতের সময় তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই মারা যায় তার চারটি গরু। একসঙ্গে চারটি গরুর মৃত্যুতে পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এ ছাড়া, ভরাট দুর্লভপুর গ্রামে বাড়িতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে আহত হয় কিশোরী খাদিজা খাতুন। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার তাসমারী খাতুন জানান, বজ্রপাতে আহত দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


