ঢাকার অপরাধ জগতের এক সময়ের ত্রাস জোসেফের অন্যতম সহযোগী পিচ্চি শাহীনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে পুরনো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
র্যাব জানায়, মোহাম্মদপুরের সাবেক কমিশনার তারেকুজ্জামান ও শীর্ষসন্ত্রাসী জোসেফের ঘনিষ্ঠ সহযোগী যুবলীগ নেতা মো. শাহীন কাজী ওরফে পিচ্চি শাহীনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- মো. গুড্ডু (৩৮), মো. শফিকুল ইসলাম (৪৮) ও মো. সেলিম (৩২)।
শুক্রবার র্যাব-২ এর জ্যেষ্ঠ সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) খান আসিফ তপু গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল মোহাম্মদপুরের সাত মসজিদ রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিচ্চি শাহীনের (৪০) অবস্থান শনাক্ত করে। তাকে গ্রেপ্তারের পর পৃথক অভিযান চালিয়ে কৃষি মার্কেট, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বসিলা এলাকা থেকে গুড্ডু, শফিকুল এবং সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃতরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেআইনি বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পিচ্চি শাহীন মূলত জোসেফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিতি পায়। চাঁদাবাজি, খুন, অস্ত্র ব্যবসা ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে কিছুদিন গা ঢাকা দিলেও সম্প্রতি আবার রাজধানীতে সক্রিয় হয়ে ওঠে।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, শাহীনকে জিজ্ঞাসাবাদে পুরনো ও নতুন সন্ত্রাসী চক্র নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই সব কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাব সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘পিচ্চি শাহীন শুধু জোসেফের সহযোগী নয়, বর্তমানে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছিল। তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পুরনো নেটওয়ার্কের অনেক তথ্য মিলবে।’
‘শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকে এখন দৃশ্যপটে নেই, কিন্তু তাদের নেটওয়ার্ক সক্রিয়। শাহীনের মতো পুরনো সন্ত্রাসীদের ফিরে আসা সে বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়।’


