রাজধানীর মহাখালীতে জাকারিয়া রেস্তোরাঁ ও বারে ভিআইপি কক্ষ না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ এক যুবদল নেতার অনুসারীরা ভাঙচুর এবং মদ-বিয়ার লুট করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেসময় রেস্তোরাঁয় থাকা নারী অতিথিদের হেনস্তা করার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় বনানী থানা যুবদল আহ্বায়ক মনির হোসেন খানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হোটেল জাকারিয়া ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। বুধবার দায়ের করা মামলায় যুবদল নেতা মনির (৪২) এবং তার সহযোগী লিটন (৩০), হাসান (৩৫), সামু (৩২) ও জহিরকে (৩০) আসামি করার পাশাপাশি নাম-পরিচয় না দিয়ে আরও কয়েকজনকে আসামিকে করা হয়েছে।
পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অপরাধমূলক কার্যক্রমের অভিযোগে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয় মনিরকে।
বনানী থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে হোটেলটির ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিক উল্লেখ করেন, গত ৩০ জুন রাত ৮টা ৫ মিনিটে মনির হোসেন রেস্টুরেন্টে এসে ভিআইপি রুম চাইলেও খালি না থাকায় তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে তিনি সাধারণ টেবিলে বসে খাবার ও পানীয় অর্ডার করেন এবং নিজেকে স্থানীয় যুবদল নেতা দাবি করে ডিসকাউন্ট দাবি করেন। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ডিসকাউন্ট দিলেও যাওয়ার সময় তিনি ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে যান।
এরপর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে লিটন নামের এক ব্যক্তি ২০-২৫ জন সঙ্গী নিয়ে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন। তিনি নিজেকে মনিরের লোক পরিচয় দিয়ে হামলা চালান এবং ব্যাপক ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। হামলাকারীরা কর্মীদের হুমকি দিয়ে বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানালে আবারও হামলা হবে। এ সময় প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সারোয়ার টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মনির হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা চলছে।
সন্ধ্যায় প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন শায়ের তার ফেসবুক পোস্টে জাকারিয়া হোটেলের বারে ভাঙচুরের ঘটনার বর্ণনা করে কয়েকটি ভিডিও আপলোড করেন।
সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া ওই হামলার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
এর ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই যুবদলের তরফ থেকে মনিরকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসে।
ওই সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরীফ উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘মনিরের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
অভিযোগ রয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি বনানীর জল খাবার রেস্টুরেন্টে চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতা মনির ও বিএনপির ২০ নম্বর ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আক্তারের নেতৃত্বে হামলা হয়।
বনানী থানায় হওয়া মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. এমদাদুল হক এমদাদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
বক্তব্য জানতে মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।


