চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন।
তাছাড়া ডিরেক্টর শিপিংয়ের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদানের কথাও বলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুরে মেঘনা নদীতে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন অর্ধশতাধিক। পরে শুক্রবার সকালে ঢাকার সদরঘাটে দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চ এমভি জাকির সম্রাট-৩ পরিদর্শন করে একথা বলেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘চালকরা অন্ধকারের মধ্যে বাতি না জ্বালিয়েই লঞ্চ চালায়। এই ঘটনাটি কেন ও কীভাবে ঘটেছে, তা তদন্তে মন্ত্রণালয় থেকে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুর্ঘটনার শিকার দুটি লঞ্চের দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তদন্তের পর দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বোঝা যাবে।’
কুয়াশার মধ্যে নৌযান চলাচলে সতর্কতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন,‘কুয়াশায় দৃশ্যমানতা ভালো না হওয়া পর্যন্ত কোনো লঞ্চ ছাড়বে না এবং যেখানে তারা অবস্থান করবে, সেখানে সম্পূর্ণ আলো জ্বালিয়ে রাখতে হবে। এই মৌসুমে সকাল আটটার আগে কোনো বাল্কহেড চলাচল করলেই তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এসময় দুর্ঘটনায় হতহতদের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের দাফন ও যাতায়াত খরচের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে এবং ডিরেক্টর শিপিংয়ের পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছি। সেই সঙ্গে মালিকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য তাদের তলব করা হয়েছে।’
মালিকদের কী ত্রুটি ছিল সেটিও দেখা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এরপর থেকে যদি কোনো লঞ্চ লাইট না জ্বালায়, সঠিক চালক দিয়ে না চালায় বা বাতি ছাড়া রাতে চলাচল করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের লাইসেন্স ও রুট পারমিট বাতিল করা হবে।’
ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা অভিমুখী এম. ভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি বৃহস্পতিবার রাত ২টার পর হাইমচর নৌ এলাকা অতিক্রম করছিল। একই সময়ে তারেক রহমানের সংবর্ধনা ঘিরে ঢাকা থেকে বিএনপির সমর্থকদের নিয়ে যাচ্ছিল বরিশালগামী এম. ভি অ্যাডভেঞ্চার-৯। এসময় নদীতে ঘন কুয়াশা থাকায় দিক নির্ণয় করতে না পেরে অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি জাকির সম্রাট-৩ কে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে নিহত হন চরজন, আহন হন অর্ধশতাধিক।


