ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত থাকলেও শুরু হতে কিছুটা সময় লেগে যায়।
দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়ে বিজয়ী হওয়া দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা প্রথা অনুযায়ী আগে শপথ নেন। তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২ এর ক ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই শপথবাক্য পাঠ করান।
সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা শুরু করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা।
শপথ শেষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা বুঝিয়ে দেন সচিব কানিজ মওলা।
শপথ গ্রহণের সময় প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণের নিয়ম বলে দেন। সংবিধান মেনে শপথের বাকি আনুষ্ঠানিকতা হবে বলেও জানান তিনি। সেই সঙ্গে এটাও বলেন যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি যেহেতু এখনো সংবিধানে যুক্ত হয়নি, তাই সেই পরিষদের শপথে অংশ নেবে না বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই সংসদ ভবন এলাকায় ভিড় জমে উৎসুক জনতার। নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকলেও উৎসাহী জনতাকে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। সেই ভিড় ঠেলেই সংসদ ভবনের ভেতর প্রবেশ করে সংসদ সদস্যদের বহনকারী গাড়িগুলো।

অবশ্য প্রবেশমুখে নতুন সংসদ সদস্যদের পড়তে হয়েছে সাংবাদিকদের ক্যামেরা আর মাইক্রোফোনের সামনে। নিজেদের অনুভূতি ও দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে তারা ঢুকছেন নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পথে।
গত বৃহস্পতিবার দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ হয়। একটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে ভোট হয়নি। নির্বাচনে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। ৭৭টি আসন পেয়ে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া স্বতন্ত্র সাত জন বিজয়ী হয়েছেন, অন্যান্য দল থেকে জয় পেয়েছে একটি আসনে।


