ঢাকার ধানমন্ডিতে ছায়ানট ভবনে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর শংকরে ‘ছায়ানট ভবন’ পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা হামলার শিকার ভবনটি ঘুরে দেখেন এবং ছায়ানটের সংগঠক পার্থ তানভীর নভেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। হামলার ঘটনায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমি ছায়ানট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে যাবতীয় সংস্কার কার্যক্রম শেষ করতে।’ প্রতিষ্ঠানটি যেন দ্রুত চালু করা যায় এ ব্যাপারে আর্থিক সহায়তাসহ সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে বলেও জানান মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তিনি আরও বলেন, ‘এই ভবনের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিচ্ছি। ছায়ানটের বাইরে বিজিবি ও পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে। আমি উপদেষ্টা পরিষদের অন্যান্যদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছি।’
এ হামলার ঘটনা অবশ্যই নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের ওসমান হাদিকে নিয়ে কথা বলার সময়। আজ আমাদের শোকাতুর হওয়ার কথা। কিন্তু প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে দিয়েছে কারা? কারা প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানটে হামলা করেছে? যারা করেছে তারা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক উত্তরণ চায় না।’
‘জাতীয় শোকের এমন মুহূর্তে এক শ্রেণীর হঠকারী দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এ হামলা চালিয়ে ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। হাদির মৃত্যুতে কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠনে হামলা কেবল একটি ফৌজদারী অপরাধই নয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনারও পরিপন্থী’ বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওসমান হাদির মৃত্যু হয়। তারপরই প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয় এবং ছায়ানট ভবনে হামলা চালায় একদল মানুষ।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। পাশের একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে অটোরিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে।


