শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর সেখানে আটকে পড়া বেশিরভাগ বাংলাদেশি কলম্বো ছেড়েছেন।
দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। অল্প সংখ্যক বাংলাদেশিও দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।
ঘূর্ণিঝড়টি শ্রীলঙ্কার ২৫ জেলায় তাণ্ডব চালায়। যার ফলে মারাত্মক বন্যার সৃষ্টি হয়, পরিবহন ও জরুরি পরিষেবা খাতেও বিপর্যয় নামে। এ বিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৬ জন। এসময় দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১০জনেরও বেশি বাংলাদেশি আটকা পড়েছিলেন। তবে তাদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করে হোটেলে রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, তিন বাংলাদেশি নাগরিককে ভারতের ‘অপারেশন সাগর বন্ধু’র অধীনে উদ্ধার করে কলম্বোয় ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে কোনো বাংলাদেশি আহত হননি। ঝড়ের পরে নিয়মিত বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বাংলাদেশি আটকা পড়েছিলেন। তাদের অনেককে দেশে ফেরত পাঠাতে আমরা একটি বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ার পর শ্রীলঙ্কার বিমান সংস্থাগুলো নিয়মিত ফ্লাইট ফেরয় চালু করেছে। যার ফলে বাকি বাংলাদেশিরাও ধীরে ধীরে চলে যেতে শুরু করেছেন। শুধুমাত্র অল্প সংখ্যক যাত্রী এখনও তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছেন।
ভারতীয় বাহিনীর দ্বারা উদ্ধার হওয়া তিন ব্যক্তির বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, ‘তারা নিরাপদে আছেন এবং এরই মধ্যে ঢাকায় ফেরার জন্য তাদের নিজস্ব ব্যবস্থা করেছেন।’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘শ্রীলঙ্কা বিমান বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে আইএনএস বিক্রান্তের হেলিকপ্টার এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টার ব্যাপক উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে। যার মাধ্যমে আটকে পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে যারা গর্ভবতী, শিশু এবং গুরুতর আহত ব্যক্তিদের আকাশপথে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে শ্রীলঙ্কা, ভারত, জার্মানি, স্লোভেনিয়া, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, পোল্যান্ড, বেলারুশ, ইরান, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা ছিলেন।’


