পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সামরিক বাহিনীর গাড়িতে হামলার দায় স্বীকার করেছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। সংগঠনটির দাবি, মাস্তুং জেলায় সামরিক সদস্যদের বহনকারী গাড়িতে হামলায় ৪৫ জনের বেশি সেনা নিহত এবং আরও কয়েক ডজন আহত হয়েছেন।
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা সামরিক বহরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
বেলুচিস্তান পোস্টের খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার কোয়েটা-করাচি মহাসড়কের খাদকুচা এলাকার কাছে এ হামলা চালানো হয়।
গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বেলুচ লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র জিয়ন্দ বেলুচ বলেন, সামরিক বহর, বহরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য এবং হামলার পর ঘটনাস্থলে আসা অতিরিক্ত সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, তাদের ফতেহ স্কোয়াড এ হামলা চালিয়েছে। এটিকে পাকিস্তান সরকারবিরোধী ‘সমন্বিত ও তীব্র’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
বিবৃতি প্রকাশের সময়ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ চলছিল বলে দাবি করেছে বিএলএ। সংঘাত চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসি উর্দুকে দেওয়া বক্তব্যে পাকিস্তান সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তা মাস্তুংয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি বহরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- সৈনিক নিয়ামতুল্লাহ, সৈনিক নিয়ামত খান, সৈনিক হারুন, নায়েক আবিদ, সুবেদার জুনেদ, সুবেদার হায়দার এবং সৈনিক সাবির হুসেইন।
আহতদের মধ্যে সৈনিক শওকতুল্লাহ, নায়েক নাদিম, মিরাজ খান, নায়েক ইনায়েত, ইজাজ আহমেদ, রোশনি গুল, বাবর ও জাভেদ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহত ও আহত অন্য সদস্যদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, হামলার পর ওই এলাকায় হেলিকপ্টারের চলাচল অব্যাহত ছিল এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে রয়েছে। এমনকি বিএলএ’র হামলার জবাবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে বেসামরিক মানুষও হতাহত হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।
তবে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি জানিয়েছে, তারা যেটিকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধ হিসেবে বর্ণনা করছে, সেই অভিযানের চূড়ান্ত তথ্য নিয়ে শিগগিরই বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হবে।
ওই বিবৃতিতে পাকিস্তানি বাহিনীর জনবল ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংগঠনটির মূল্যায়নও তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে।


