পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ও তার স্ত্রীর সম্পদ জব্দের আদেশ

পাসপোর্টের সাবেক পরিচালক ও তার স্ত্রীর সম্পদ জব্দের আদেশ
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক সাইদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সাইদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী শায়লা আক্তারের নামে থাকা স্থাবর সম্পদ জব্দের আদেশ দিয়েছে আদালত।

বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত সাইদুল ইসলাম (৫০) ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। তার নামে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ১৯ লাখ ৪ হাজার ২৪০ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। একই মামলায় তার স্ত্রী শায়লা আক্তারের বিরুদ্ধেও ১ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৮৯৬ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্বামী-স্ত্রী দুইজন যোগসাজশের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করেছেন বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

দুদকের আবেদনে আরো বলা হয়, মামলার তদন্তকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, অভিযুক্তরা তাদের নামে থাকা বিভিন্ন স্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে এসব সম্পদ হস্তান্তর হয়ে গেলে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন

তদন্তে প্রাথমিকভাবে সাইদুল ইসলামের নামে পাবনার বেড়া উপজেলায় একাধিক সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে কেনা জমি, কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকায় যৌথ মালিকানাধীন জমির অংশ, ঢাকার ডেমরা ও মোহাম্মদপুর এলাকায় জমি ও জমির অংশসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এছাড়া তার স্ত্রী শায়লা আক্তারের নামে পাবনা, নরসিংদী, গাজীপুর ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জমি এবং মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডে কার পার্কিংসহ প্রায় ১ হাজার ৮৯৯ বর্গফুট আয়তনের একটি ফ্ল্যাটসহ একাধিক স্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্যও উঠে আসে।

দুদক জানায়, তদন্ত চলমান থাকাকালে অভিযুক্তদের নামে আরও স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলে সেগুলো ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার জন্য পৃথক আবেদন করা হবে।

এসব বিবেচনায় নিয়ে আদালত দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ (সংশোধিত) এর বিধি ১৮ অনুযায়ী সাইদুল ইসলাম ও শায়লা আক্তারের নামে থাকা আবেদনে বর্ণিত সব স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়গুলো এবং দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগকে রিসিভার হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad