ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। তারা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নিযুক্ত রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী। তাই কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি ন্যূনতম পক্ষপাতিত্ব বা পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ব্যক্তি, দল কিংবা কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত হওয়া যাবে না। আইন, বিধি, জননিরাপত্তা, জনসেবা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
কোনো কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা বা দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে প্রার্থী বা তাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ, সুযোগ-সুবিধা কিংবা খাবার গ্রহণ করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। নির্বাচন অস্বচ্ছ হলে জাতির জন্য অন্ধকার ভবিষ্যৎ নেমে আসতে পারে। তাই নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব, আচরণ ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় এমন একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হবে।
নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কাউকে আইন ভঙ্গ করতে দেওয়া যাবে না এবং বেআইনি কাজ করলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।’


