রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে শোক ও ক্ষোভের ঢেউ বইছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সম্ভবত এই মুহূর্তে মেয়েদের জন্য, বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক দেশ হলো বাংলাদেশ! শুধু গ্রেপ্তার করে সান্ত্বনা দিবেন আর বিচারের কোনো নাম নাই, এই সার্কাস আর কতদিন?’
তিনি আরও লেখেন, ‘বিচার এমনভাবে করা উচিত যাতে এই ধরনের অপরাধ করার আগে অপরাধীর রূহ কাপে….।’
পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশেও আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একজন মেয়ের বাবা হিসেবে আপনি সকল বাবাদের ভয় এবং আতঙ্কের কথাটা বুঝতে পারবেন বলে আশা করি।’
অভিনেতা কাজী মারুফ এ ঘটনায় কঠোর আইন ও দ্রুত বিচার দাবি করেন। ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে মারুফ লিখেছেন, ‘দেশে আইন থাকলেও অনেক সময় তার সঠিক প্রয়োগ দেখা যায় না।’
‘শিশু শুধুই শিশু। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। যারা শিশুদের ক্ষতি করে, তারা মানবতার পরিচয় দিতে পারে না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘মানুষ ও পশুর মধ্যে পার্থক্য আছে। মানুষের বিবেক আছে, অনুভূতি আছে। কিন্তু যারা শিশুদের ওপর নির্যাতন চালায়, তারা সেই মানবিক গুণ হারিয়ে ফেলেছে।’
মারুফ মনে করেন, অতীতে শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে হয়তো নতুন করে এমন ঘটনা কমে আসত। তার ভাষায়, কঠোর শাস্তির ভয় থাকলে অপরাধীরা এমন কাজ করার সাহস পেত না।
সামাজিক বাপমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে সমাজের অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধন ও ভালোবাসার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাপ্পারাজ। তিনি লেখেন, ‘পারিবারিক শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন, স্বার্থহীন ভালোবাসার অভাব আমাদের সমাজ আর সমাজের মানুষগুলোকে কত অসহায়, কত নিরুপায় করে তুলছে। আমরা কার কাছে বিচার চাইবো? কার কাছে নিরাপত্তা চাইবো?’
নিজের ফেসবুক পোস্টে মাসুমা রহমান নাবিলা লেখেন, ‘আর কোনো কথাতো বেরোয় না আমার। কী বলবো? কী বললে, কী করলে নিরাপদে থাকবে আমাদের শিশুরা? কেন মানুষ রূপে জন্ম নিয়েও সকলে হিংস্র প্রাণী হয়ে যাচ্ছে? সভ্য সমাজ বলতে কি আর কিছু আছে? কোথায় এর শেষ হবে? শেষ কি আছে এর কোনো? কোথায় যাবো? কি করবো? এতো অসহায় লাগে… এতো অসহায় লাগে….’
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একটি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলছে, অপরাধ ঢাকতে এবং আলামত গোপন করতেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তে আরও কিছু বিষয়, যেমন নির্যাতন বা অন্যান্য অপরাধের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


