রাজার ছেলে রাজা হোক, এই রাজনীতির বিরোধী আমরা: জামায়াত আমির

রাজার ছেলে রাজা হোক, এই রাজনীতির বিরোধী আমরা: জামায়াত আমির
কক্সবাজারে নির্বাচনী জনসভায় শফিকুর রহমান। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘রাজার ছেলে রাজা হোক, এই রাজনীতির আমরা বিরোধী। যার যোগ্যতা আছে সেই এদেশের সেবক হোক, এটি আমরা দেখতে চাই। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আমার একজন রিকশাচালক শ্রমিক ভাইয়ের মেধাবী সন্তানও যেন আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারে। ওই রকম দেশটা গড়তে চাই।’

সোমবার দুপুরে কক্সবাজারে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। কক্সবাজার শহরের বাহারছড়া এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাঠে (গোলচত্বর মাঠ) এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আবু সাঈদ, আবরার ও শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীদের জন্য কোনো মায়া-দয়া নেই, ছাড় নেই। এদের হত্যাকারীদের বিচার হতে হবেই। এটা তো ন্যায্যতার দাবি। তবে কারও ওপর অবিচার করা হবে না, ইনশাআল্লাহ।’

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের নির্বাচন হবে জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন, জুলাই বীরদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন। মা-বোনদের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন, এই নির্বাচন শিশুর স্বপ্ন মেলে ধরার নির্বাচন, এই নির্বাচন হচ্ছে পঁচা-ঘুনে ধরা ৫৪ বছরের যে রাজনীতি দফায় দফায় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেই রাজনীতিকে বিদায় জানানোর, লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন।’

তিনি বলেন, ‘আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন একটা বাংলাদেশ জনগণ পাবে। সেদিন আমাদের মায়েদের মাথার ওপর তুলে মর্যাদা দেব, ইনশাআল্লাহ। তাদের ঘরে-কর্মস্থলে সব জায়গায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেই জন্য আমরা বলেছি, মেয়েদের মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা খরচ বহন করবে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘এই মায়েদের যে জাতি সম্মান করবে, সে জাতিকে আল্লাহ সম্মানীত করবেন। আর যারা সম্মান করতে জানবে না, তারা আল্লাহর কাছ থেকে কোনো সম্মান পাবে না।’

তিনি বিএনপির প্রতিশ্রুত বেকার ভাতা প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা রাস্তায় নেমে বলেননি, আমাদের বেকার ভাতা দেন। তারা বলেছেন- আমাদের কাজ দেন। আমার পাওনা কাজটা আমার হাতে তুলে দেন। মামু-খালুর টেলিফোনে আর কোটায় আমার নিজের মেধা যেন হারিয়ে না যায়। এই ছিল তাদের দাবি। আমার যোগ্যতায় আমার যে প্রাপ্য, তা আমার হাতে দেন।’

আরও পড়ুন

ডা. শফিক বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটা হাতকে মজবুতভাবে গড়ে দেব, দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে। তারপর কাজ তুলে দিয়ে বলব- এবার আগাও। এ দেশ তোমার। এবার চিৎকার দিয়ে বলো-আমিই বাংলাদেশ। দেশের গর্বিত নাগরিক বানাতে চাই যুব সমাজকে।’

তিনি সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ‘তারা বিভিন্ন ধরনের অনেক কিছু রটায়, ঘটায়। কারা করে এগুলো! যখন দেখে চারদিকে অন্ধকার, তখন দিনকেও রাত মনে করে। দিশেহারা হয়ে যায়। কিন্তু মনে রাখবেন- এ দিয়ে মানুষের ভালোবাসার জোয়ার ঠেকানো যাবে না। জনগণের দেহের ওপর চাবুক মারতে পারবেন, মনের ওপর চাবুক মারতে পারবেন না।’

তিনি বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘বগলের তলে ঋণখেলাপি, আর আপনি দেবেন বাংলাদেশ দুর্নীতি মুক্ত করে! পেঁচায়ও হাসবে এ কথা শুনে।’ তার ভাষায়, জনগণ সবার চালাকি বুঝে। জনগণকে কেউ যেন বোকা না ভাবে।

তিনি দেশের দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলেন, ‘লেজ ধরে টানাটানি না করে কান ধরে টান দিলেই হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা লেজ আর পা ধরবো না, আমরা মাথার ওই যে ডান আর বামে কান আছে ওইটা ধরে টান দেব। যাতে এই শাস্তি থেকে হেদায়াত প্রাপ্ত হয়ে পরিশুদ্ধ হয়ে যায়।’

তিনি কক্সবাজারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এই কক্সবাজার এখন পর্যন্ত কেন হংকং হতে পারলো না, কেন এটা সাংহাই হতে পারলো না! কেন এটা সিঙ্গাপুর হতে পারলো না। অসৎ, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, ব্যাংক ডাকাতদের কারণে এটা হয়নি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ’আমরা কথা দিচ্ছি, দেশ থেকে যে আটাশ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে, ওদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে বের করে আনবো, ইনশাআল্লাহ। এবং সেই টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে। জনগণের উন্নয়নে ইনসাফভিত্তিক সেটা ব্যয় করা হবে। কোনো মামা-খালু, কোনো প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীর মুখ দেখা হবে না।’

এসময় তিনি কক্সবাজারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কক্সবাজার জেলা আমীর মাওলানা নূর আহমেদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এসএম ফরহাদ, কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে জামায়াত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে জামায়াত প্রার্থী শহীদুল আলম বাহাদুরসহ (ভিপি বাহাদুর) ১১-দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা।

জামায়াতে ইসলামীর দাবি কক্সবাজারের নির্বাচনী জনসভায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad