রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের (ডিটিএস) ডরমিটরি থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতের নাম আফতাব উজ্জামান রিগ্যান (৩৭)। তিনি পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সবশেষ কর্মস্থল ছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সে।
বুধবার সকালে মরদেহটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পল্টন থানা পুলিশ।
পল্টন থানার উপপরিদর্শক শামিম হাসান বলেন, ‘সকালের দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে ছয় তলা থেকে রুমের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করি।’
আফতাব উদ্দিনের ব্যাচমেটরা জানান, ৩৫ তম আউটসাইড ক্যাডেট-এসআই ট্রেনিং শেষে ২০১৭ সালে পুলিশের যোগ দেন তিনি।
তার বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার হামিদপুর গ্রামে। বাবার নাম মৃত আনোয়ার উদ্দিন। আফতাব সিআইডির ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলের ডরমেটরির একটি রুমে থাকতেন। তার রুমমেট ছিলেন এসআই অনুজ কুমার দাস।
ছয় মাস আগে আফতাব বিয়ে করেন, স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকেন।
রুমমেট অনুজ কুমার দাস বলেন, ‘আমি মঙ্গলবার রাত ৮টায় ডিউটিতে চলে যাই। বুধবার সকাল ৯টার দিকে ডিউটি শেষ করে এসে দেখি রুম ভিতর থেকে বন্ধ৷ তখন আমি আফতাবকে ডাক দেই দরজা খোলার জন্য। কিন্তু অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিলাম না।’
‘এরপর বাইরে থেকে রুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে উঁকি দিলে দেখি, ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের সব পুলিশ সদস্যকে বিষয়টি জানাই।’
মাঝেমধ্যে আফতাব রুমের বাইরে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ টেলিফোনে কথা বলতেন জানিয়ে অনুজ কুমার বলেন, ‘যখন কথা বলা শেষে রুমে ফিরত, তখন বিমর্ষ লাগত। একবার তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কোনো সমস্যা আছে কি না! তখন সে বলেছিল, একটা প্রবলেম আছে, তবে ঠিক হয়ে যাবে। এর বাইরে কখনও কিছু চোখে পড়েনি।’
স্বজনরা জানিয়েছেন, আফতাবরা পাঁচ ভাইবোন। যাদের মধ্যে এক ভাই লন্ডন প্রবাসী, এক ভাই পুলিশের এসআই। আর দুই বোন চিকিৎসক।


