ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস তার ছোট ভাই ও প্রয়াত রানি এলিজাবেথের দ্বিতীয় ছেলে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি ও সম্মান বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্তের পর অ্যান্ড্রু আর ‘প্রিন্স’ নন। এখন থেকে তার নতুন নাম ‘অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর’।
বাকিংহাম প্যালেস বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ‘উপাধি, খেতাব ও সম্মানসূচক’ পরিচয় প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যান্ড্রুকে উইন্ডসরের রয়্যাল লজ ছাড়তেও বলা হয়েছে। যেখানে তিনি ২০০৪ সাল থেকে বসবাস করছেন।
প্রাসাদের সূত্র জানায়, অ্যান্ড্রুকে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে একটি ব্যক্তিগত আবাসনে স্থানান্তর করা হবে। যার খরচ বহন করবেন রাজা চার্লস নিজেই।
অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের পুনরুত্থানের পর এই সিদ্ধান্ত আসে। প্রয়াত মার্কিন ব্যবসায়ী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে অ্যান্ড্রুর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন বহুদিন ধরেই ছিল। অ্যান্ড্রু সবসময় জিউফ্রেকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে এলেও এই মাসের শুরুতে প্রকাশিত এক স্মৃতিকথায় ভার্জিনিয়া জিউফ্রে দাবি করেন, কিশোরী অবস্থায় তাকে তিনবার যৌন নির্যাতন করেন প্রিন্স অ্যান্ড্রু। যদিও অ্যান্ড্রু সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জিউফ্রের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিজের সত্য ও সাহসের মাধ্যমে সে একজন ব্রিটিশ প্রিন্সকে নিচে নামিয়েছে।’
রাজকীয় উপাধি হারালেও অ্যান্ড্রুর দুই মেয়ে প্রিন্সেস ইউজেনি ও প্রিন্সেস বিয়াট্রিসে নিজেদের পদবী ধরে রাখবেন। অ্যান্ড্রু এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকারের ক্রমে অষ্টম স্থানে রয়েছেন।
অ্যান্ড্রুর সাবেক স্ত্রী সারা ফার্গুসনও রয়্যাল লজ ছেড়ে নিজের আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা করবেন।
এই মাস পর্যন্ত ডাচেস অব ইয়র্ক উপাধি ধরে রেখেছিলেন সারা। তবে অ্যান্ড্রু স্বেচ্ছায় ডিউক অব ইয়র্ক খেতাব ত্যাগ করার পর, সারা তার বিয়ের আগের নাম ফার্গুসন-এ ফিরে যান।
ব্রিটিশ সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বিবিসির ‘কোয়েশ্চন টাইম’ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত “ফাঁদে পড়ে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়াদের জন্য এক অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা” পাঠিয়েছে।’
বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্ত রাজপরিবারের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। যা অ্যান্ড্রুর বিতর্কিত অতীত থেকে নিজেদের দূরে রাখতে এবং রাজার প্রচেষ্টা নির্দেশ করে।
বাকিংহাম প্যালেসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা ভুক্তভোগীদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন। যে কোনো ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছেন।
এদিকে, এই সপ্তাহে প্রকাশিত আরেকটি তথ্য বলছে, ২০০৬ সালে অ্যান্ড্রু তার কন্যা বিয়াট্রিসের জন্মদিন উদ্যাপনের অংশ হিসেবে জেফরি এপস্টেইনের অতিথি হিসেবে রয়্যাল লজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। যদিও তার দুই মাস আগেই যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।


